অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার তাঁরা বিজেপি ছেড়ে ফিরে এলেন তৃণমূলে। বৃহস্পতিবার কৃষ্ণনগর রবীন্দ্র ভবনে দলীয় সভায় পর্যবেক্ষক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নিলেন হাসখালি ব্লকের বিমল বিশ্বাস, দীনেশ চক্রবর্তীরা।

গত জুনে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বাদকুল্লা ২ পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান দীনেশ চক্রবর্তী। তার আগেই বিজেপিতে যোগ দেন বিমল বিশ্বাস। এক সময়ে দু’জনেই কংগ্রেসে ছিলেন। বিমল তৃণমূলে যোগ দেন ২০১৫ সালে, আর দীনেশ যোগ দেন ২০১৭ সালে। দলে গুরুত্ব না পেয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন দুজনেই। এর আগে হাঁসখালি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি দুলাল বিশ্বাস খুনের ঘটনায় গ্রেফতারও হন বিমল। লোকসভা ভোটের পরেই মাস দুয়েক আগে তাঁরা দিজনেই বিজেপিতে যোগ দেন। 

তবে পদ্ম শিবিরে যোগ দিলেও বর্ষীয়ান এই দুই নেতাকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। দলের কোনও কর্মসূচিতেই তাঁদের ডাকা হয় না বলে আগেই জানিয়েছিলেন দীনেশ। ফলে নতুন দলের প্রতিও আস্থা হারাতে থাকেন দুই নেতাই। আগের দিনই দীনেশ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পুরনো দলে ফেরার ব্যাপারে। 

এ দিন তৃণমূলে ফিরে বিমল বলেন, “এই দলের প্রতি অভিমানে দল ছেড়েছিলাম। ভুল বুঝে ফিরে এলাম। বিজেপির কোনও উন্নয়নের কর্মসূচি নেই। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুধু। আমরা জাতীয়তাবাদী মানুষ, তা মেনে নিতে পারিনি।” দীনেশ বলেন, “বিজেপিতে থেকে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছিলাম না। মানিয়ে নিতে পারিনি। ফিরে এলাম।” 

রাজীব বলেন, “বিজেপি মানুষের পাশে থেকে কাজ করে না। তৃণমূল করে। সেটা বুঝে ওঁরা ফিরে এলেন।” পরে সন্ধ্যায় রাজীব ও জেলা নেতৃত্ব বাদকুল্লায় একটি জনসভা করেন। বিজেপির নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মানবেন্দ্রনাথ রায় অবশ্য পাল্টা দাবি করেন, “ওঁদের যথেষ্ট সম্মান দেওয়া হয়েছিল। আমি নিজে একাধিক বার ফোন করে নানা কর্মসূচিতে ডেকেছি। তৃণমূলে ওঁদের ফিরে যাওয়ার ছিল। এখন নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন।”