এক বছর বয়স থেকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছিলাম বুড়োকে (বন্ধুপ্রকাশ)। জামাইবাবুর সঙ্গে দিদির যখন ছাড়াছাড়ি হয়, সেই থেকেই ওরা এখানেই মানুষ।  পড়াশোনা গ্রামের স্কুলেই। উচ্চমাধ্যমিক পড়ে লালবাগের স্কুলে। পরে বিজ্ঞানে স্নাতক হয় জিয়াগঞ্জের কলেজ থেকে। বুড়ো চাকরি পাওয়ার পর তার বিয়েও দিয়েছিলাম।

সপরিবারে বুড়োর খুন নিয়ে চারিদিকে নানা কথা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীক সঙ্কট, পারিবারিক সমস্যা, কত কিছু। এও শুনলাম ও নাকি আরএসএস করত। সম্পূর্ণ মিথ্যে কথা। জীবনে কখনও কোনও রাজনীতির সঙ্গে জড়ায়নি বুড়ো।  রাজনীতিতে বরাবরই ভীষণ অনীহা ছিল ওর। তবে গ্রামের  প্রতিটি মানুষের সঙ্গে ছিল ওর নাড়ির যোগ।

সকলেরই সঙ্গে খুব ভাল সম্পর্ক ছিল, তা তিনি যে রাজনীতির মানুষই হোন না কেন। পুলিশ বলেছে, বুড়ো নাকি গ্রামে অনেকের কাছ থেকে টাকা পয়সা ধার করে জিয়াগঞ্জে চলে যায়। পুলিশের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও দুঃখজনক। সেই সঙ্গে, একটাই অনুরোধ, দয়া করে খুনিদের ধরার চেষ্টা করুন, বুড়োর খুনের পিছনে রাজনীতির রং ঢালবেন না।
 

লেখক : নিহত বন্ধুপ্রকাশের মামা, সাহাপুর