• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্ত্রীর মৃত্যু, পেটানো হল স্বামীকে

Beating
জঙ্গিপুর হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র

মেয়েকে খুন করা হয়েছে, অভিযোগে হাসপাতালেই তরুণীর পরিজনেরা বেধড়ক পেটালেন মৃতার স্বামীকে। সুতির কয়াডাঙা গ্রামের ওই ঘটনায় জঙ্গিপুর হাসপাতালের সামনেই তরুণীর পরিবারের হাতে বেধড়ক মার খেয়ে শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুলিশের ভয়ে গা ঢাকা দেয় অভিযুক্ত স্বামী শুভঙ্কর দাস এবং চার মা ফুলকুমারী। 

বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন দোয়েল দাস (১৯)। তার বাবার বাড়ি সর্বেশ্বরপুর গ্রামে। এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে জিয়াগঞ্জের একটি কলেজে ভর্তিও হয়েছিল সে। যাতায়াতের পথেই আলাপ পড়শি গ্রাম কয়াডাঙার যুবক, পেশায় টাইলস মিস্ত্রি শুভঙ্করের সঙ্গে। মাস পাঁচেক আগে বাড়ি পালিয়ে বিয়েও করে সে। ঘটনার পর তরুণীর বাড়ির লোকজন সে বিয়ে মেনে নিয়ে রেজিষ্ট্রিও করান। 

তরুণীর দাদু স্বাধীন দাস বলেন, ‘‘দু’জনেই সাবালক। বিয়ে করেছে ভালবেসে। তাই শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়েছিলাম আমরা। আর তা সব শেষ হয়ে গেল পাঁচ মাসে?’’

বুধবার রাত ১১টা নাগাদ খবর আসে, শ্বশুরবাড়িতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে দোয়েল। তাকে জঙ্গিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবাই ছুটে যান সেখানে। হাসপাতালে পৌঁছে লিফ্টে করে উপর তলায় তোলার সময়েই মারা যায় দোয়েল।

ভর্তির সময় হাসপাতালে ছিলেন তরুণীর আত্মীয় সুমন দাস। তিনি বলেন, “সাড়ে তিন মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা ছিল দোয়েল। হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, কীটনাশকে মৃত্যু হয়েছে তার। তাই দেহ ছাড়া যাবে না। ময়না তদন্তে পাঠানো হবে।” 

কীটনাশকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সুতি থেকে তরুণীর আত্মীয় পরিজনেরা বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভিড় করেন। হাসপাতালের সামনে পেয়ে যান শুভঙ্করকে। শুরু হয় তার কলার ধরে মারধর। পরিজনদের অভিযোগ, স্বামী ও শাশুড়ি মিলে তার দেহে কীটনাশক প্রয়োগ করে তাকে মেরে ফেলেছে। 

স্বামী শুভঙ্কর অবশ্য বলেন, “রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক হাতুড়ে চিকিৎসককে বাড়িতে ডেকে এনে ওষুধ, ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। তারপরেই আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে দোয়েল।”

বৃহস্পতিবার এক ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়না তদন্ত করা হয় তরুণীর। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি চলছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন