কেন্দ্রীয় প্রকল্প (জেএনএনইউআরএম) পাওয়া নতুন বাস চালানো নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই গোলমাল বেঁধেছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের যুক্তিতে বিভিন্ন রুটে আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস চালানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন নিগমের চেয়ারম্যান তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। যিনি তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যানও। অথচ ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে যৌথ মঞ্চ গড়ে আন্দোলনে সামিল হয়েছে তৃণমূলেরই শ্রমিক সংগঠন ও দলের নেতাদের একাংশ।

দলের মতানৈক্য প্রকাশ্যে আসায় শেষ পর্যন্ত ওই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়বে কি না তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

এনবিএসটিসি সূত্রের খবর, জওহরলাল নেহরু কেন্দ্রীয় নগর পুর্নগঠন মিশন (জেএনএনইউআরএম) প্রকল্পের থেকে পাওয়া বাস শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, হলদিবাড়ি এবং মালবাজার রুটে চালাতে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগম। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ঝাঁ চকচকে আরামদায়ক বাস চালানোয় যাত্রী সংখ্যাও কয়েকগুণ বেড়েছে বলে নিগমের দাবি। এ দিকে, ঘনঘন সরকারি বাস চালানোয় ব্যবসায় টান পড়েছে বলে অভিযোগ করে আন্দোলন শুরু করেছে জলপাইগুড়ির বেসরকারি বাস মালিক এবং কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ। জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে স্মারকলিপি দিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া এবং বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে যৌথ মঞ্চ।

নিগমের পাল্টা অভিযোগ, সম্প্রতি ৪টি নতুন বাসের কাঁচ ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতি ক্ষেত্রেই সামনের কাঁচ ভেঙেছে। সরকারি বাসের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে বেসরকারি বাস কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাগুলিতে ক্ষুব্ধ নিগমের চেয়ারম্যান তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব বুধবার শিলিগুড়িতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে বলেন, “নানা ভাবে সরকারি বাস চালাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাসের কাঁচে ঢিল ছোঁড়া হচ্ছে। আমি জানি কারা এ সব করছে, তাদের নাম বলছি না। তবে এগুলি কড়া হাতে দমন করতে পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে জলপাইগুড়িতে বৈঠক হবে।”

তবে আন্দোলনের সিদ্ধান্তে অনড় যৌথ মঞ্চে সামিল তৃণমূল নেতারা। বেসরকারি বাস মালিক এবং কর্মীদের ১৫টি সংগঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে যৌথ মঞ্চ। মঞ্চে সামিল হয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল বেসরকারি মোটর কর্মী ইউনিয়ন। আইএনটিটিইউসির দাবি, জেলায় বেসরকারি পরিবহণ ক্ষেত্রে তাদের সংগঠনই সর্ববৃহৎ। দলের নেতাদের আন্দোলনে সামিল হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য, “কে কোথায় আছে, কী করছে জানি না। শ্রমিক সংগঠন মালিকদের পক্ষে কথা বলবে কেন। সকলে মিলে প্রতিযোগিতায় আসুন, তবেই যাত্রীদের সুবিধে হবে, শিল্পও বাঁচবে।”

বর্তমানে জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রুটে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর সরকারি নতুন বাস চলছে। নিগম সূত্রে জানানো হয়েছে, এই রুটে বর্তমানে ২৪টি বাস চলে। যৌথ মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক তথা জলপাইগুড়ির তৃণমূল নেতা সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, “মন্ত্রী এ দিন কী বলেছেন শুনেছি। তবে তিনি মা-মাটি মানুষের সরকারের মন্ত্রী। সাধারণ বাসিন্দাদের কথা তাঁর ভাবা উচিত। গত ত্রিশ বছর ধরে বেসরকারি বাস শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি রুটে চলছে। হঠাৎ করে ঘনঘন সরকারি বাস চালিয়ে বেসরকারি ক্ষেত্রকে পথে বসানোর আগে মন্ত্রী একবার আলোচনা করলে ভাল করতেন। নিগমের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন জারি রাখব।” সুদীপ্তবাবু জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি রুটে আধ ঘণ্টা অন্তর সরকারি নতুন বাস চলুক।

আইএনটিটিইউসির জেলা সভাপতি কৃষ্ণেন্দু মোহন্ত বলেন, “কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক বিরোধিতা নয়। বেসরকারি পরিবহণ সংগঠন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কাতেই সকলে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের সংগঠন তাতে সামিল হয়েছে। এতে কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়।”