টিএমসিপিকে ঠেকাতে পরস্পরের হাত ধরল এসএফআই, এবিভিপি ও ছাত্র পরিষদ। তিন সংগঠনের জয়ী প্রার্থীরা জোট বেঁধে ভোটাভুটিতে টিএমসিপিকে হারিয়ে কালীপদ ঘোষ তরাই মহাবিদ্যালয় তথা বাগডোগরা কলেজে ছাত্র সংসদ গঠন করল।

বুধবার ওই কলেজের ছাত্র সংসদ গঠনের দিন ছিল। নির্বাচিত ৫০ জন ছাত্র প্রতিনিধির মধ্যে ৪৭ জন এদিন উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে হাত তুলে ভোটাভুটির সময় টিএমসিপি’র পক্ষে ২২ এবং বিরোধী জোটের পক্ষে দাঁড়ায় ২৫ জন। বিরোধীদের জোটবদ্ধ দেখে ছাত্র সংসদ গঠনে ভোটাভুটির ক্ষেত্রে এর পর টিএমসিপি বাধা দিতে সচেষ্ট হয় বলে অভিযোগ। এদিকে অপর পক্ষ ভোটাভুটির দাবিতে অনড় থাকায় সভাকক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সভার মধ্যেই শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। উপস্থিত শিক্ষকরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসে পুলিশও। চার ঘন্টা টানাপড়েনের পর শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি শুরু হয়। পেশ করা দুটি প্যানেলে ২৫-২২ ভোটে জিতে সাধারণ সম্পাদক হন ছাত্র পরিষদের প্রতিনিধি জয়দীপ উপাধ্যায় ।

গত ২৯ জানুয়ারি ওই কলেজে ৫০ আসনের ছাত্র সংগঠনের নির্বাচনে ২২টি আসনে জেতে টিএমসিপি। বিরোধীরা আলাদা ভাবে লড়ে ছাত্র পরিষদ ১৬ টি, এবিভিপি ৪টি এবং এসএফআই ৮টি আসনে জয়ী হয়। কোনও ছাত্র সংগঠনই একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা না-পাওয়ায় ওই কলেজের ছাত্র সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়। সেই থেকে তৃণমূল বিরোধী জোট গড়ে ছাত্র সংসদ দখলের হাওয়া ছিলই। তবে এসএফআই, অখিলভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ নেতৃত্ব জানিয়ে ছিলেন তাঁরা জোট গড়বে না। তাতে ছাত্র সংসদ তারাই গঠন করবে বলে দাবি করেছিল টিএমসিপি। এ দিন অবশ্য কলেজে বিপরীত ছবিই দেখা গিয়েছে। তৃণমূল বিরোধী শিবিরের ছাত্র সংগঠনগুলির তরফে জোটের কথা অস্বীকার করা হলেও তারাই ছাত্র সংসদ গঠন করেছে। এসএফআই’য়ের ৩ জন ছাত্র প্রতিনিধি এ দিন অনুপস্থিত ছিলেন। ছাত্র পরিষদের জয়দীপ উপাধ্যায় সাধারণ সম্পাদক হন। কোষাধ্যক্ষ, সহসভাপতি এবং সহকারি সাধারণ সম্পাদকের পদগুলি দেওয়া হয়েছে এসএফআই ও ছাত্র পরিষদের তিন প্রতিনিধিকে। ওই চারটি পদে ভোটাভুটির মাধ্যমে এ দিন ছাত্র সংসদ গঠন করেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।

টিএমসিপির রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, “এসএফআই, এবিভিপি ও ছাত্র পরিষদ এক হয়ে রামধনু জোট করে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নেমেছে। আমরা অনেক দিন ধরেই এই দাবি করে আসছি। বাগডোগরা কলেজের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল।” সংগঠনের জেলা সভাপতি নির্ণয় রায় বলেন, “অনৈতিক ভাবে ওরা আমাদের সংসদ গড়তে দিল না।”

ছাত্র সংসদ গঠনের পর উল্লাস বিরোধী জোটের ছাত্র-ছাত্রীদের।

ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি রোনাল্ড দে’র কথায়, “কলেজের উন্নয়ন এবং টিএমসিপি’র সন্ত্রাসের হাত থেকে কলেজকে রক্ষা করতে তৃণমূল বিরোধীরা আমাদের সমর্থন করেছে। নির্বাচনে মনোনয়ন তোলা থেকে কী ভাবে টিএমসিপি বাধা দিয়েছে সবাই দেখেছেন। এটা তারই জবাব।” এসএফআইয়ের জেলা সভাপতি সৌরভ দাসের বক্তব্য, কোনও জোটে তারা যাননি। তাদের যে ৮ জন ছাত্র প্রতিনিধি ভোটে জিতেছেন, তাদেরই একাংশ এ দিন কমিটি গঠনে অংশ নিয়েছে। তবে তাঁরা ছাত্র সংসদে পদ কেন নিয়েছেন তা তিনি বলতে পারবেন না। এবিভিপি’র জেলা নেতা ত্রিদিব সাহা বলেন, “মঙ্গলবার পর্যন্ত আমরা জোটের পক্ষে ছিলাম না। স্থানীয় স্তরে ছাত্র প্রতিনিধিরা কলেজের স্বার্থে বরোধী জোটকে সমর্থন করেছেন।”

গত কয়েক বছর ধরে ওই কলেজ টিএমসিপি’র দখলেই ছিল। এ বারও তা দখলে রাখতে গোড়া থেকেই সচেষ্ট ছিল টিএমসিপি। মনোনয়ন জমা করা নিয়ে টিএমসিপি এবং বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল কলেজ চত্বর। তবে শেষ রক্ষা না হওয়ায় টিএমসিপি’র হাত ছাড়া হল বাগডোগরা কলেজ।

 

ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।