• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগে আশ্বাস দিলেন আচার্য

1
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি। নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আর্থিক দুর্নীতির দায়ে রেজিস্ট্রার দিলীপ সরকারকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার দ্রুত স্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগের ব্যাপারে আশ্বাস দিলেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য কেশরীনাথ ত্রিপাঠী।

বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘‘এমন হয়ে থাকলে আমি বিষয়টি দেখছি।’’ স্থায়ী রেজিস্ট্রার না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তা ছাড়া বিভিন্ন জনকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসাবে ৬ মাস করে করে কাজ চালাতে হচ্ছে। যিনিই দায়িত্ব নিচ্ছেন স্থায়ী রেজিস্ট্রার না-হওয়ায় তিনিও অনেক সময় সব কাজ করতে পারছেন না।

২০১০ সাল থেকেই দিলীপবাবু পরীক্ষাসমূহের নিয়ামক থাকার সময় কনফিডেন্সিয়াল অ্যাকাউন্টে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দিলীপবাবু সে সময় রেজিস্ট্রার ছিলেন। তার নামে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরেই রেজিস্ট্রার পদ থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়। আদালতে তা নিয়ে মামলা চলতে থাকে। পুলিশ দিলীপবাবু সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দিয়েছে। তবে বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে দিলীপবাবুকে সম্প্রতি বরখাস্ত করা হয়।

এ দিন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সাম্মানিক ডিলিট দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘‘এই সম্মান এর আগে কেউ দেয়নি। এই সুযোগ মেলায় আমার ভাল লাগছে।’’ সাম্মানিক ডিএসসি সম্মান দেওয়া হয় গোবর্ধন মেটাকে। কানপুর আইআইটি, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশ-বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতায় যুক্ত।

আচার্য এ দিন তাঁর বক্তব্যে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘‘আপনারা যে পেশাতেই থাকুন, দেশের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি মনে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের কর্তব্য এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধতা, পরিশ্রম এবং ‘টিম স্পিরিট’ গুরুত্বপূর্ণ। একই রকম ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশের উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার প্রতি দায়বদ্ধতা। দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং সঠিক ভাবে তা তুলে ধরার বিষয়টি সকলকেই মনে রাখতে হবে। শিক্ষিতসমাজ এবং উচ্চ শ্রেণির মানুষেরা যখন অন্যদের নিয়ে দেশের ঐক্য রক্ষায় কাজ করেন, তখনই তা ভাল ভাবে করা সম্ভব। এই বিশ্ববিদ্যালয়ও সেই সঠিক পথে চলবে বলে আশা করি।’’ কোনও বিষয়কে উল্লেখ করে আচার্য এ কথা না বললেও জেএনইউ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ দিন তাঁর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে করছেন শিক্ষক-পড়ুয়াদের একাংশ।

সমাবর্তনে এ দিন উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব, মুখ্য অতিথি ছিলেন শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ডিরেক্টর অজয়কুমার রায়। গত এক বছরের বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কী কী কাজ হয়েছে তা তুলে ধরেন উপাচার্য সোমনাথ ঘোষ।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
আরও খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন