পঞ্চ অনন্যা

লেখা ও ছবি: সুদীপ দত্ত

“বাংলা সাহিত্যে পঞ্চ অনন্যা’য় স্বপনকুমার মণ্ডল ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর পাঁচ ‘প্রতিভাময়ী কবি-সাহিত্যিক নারী ব্যক্তিত্বে’র ওপর আলোকপাত করেছেন। সংকলনে স্থান পেয়েছেন কাব্যসাহিত্যে মানকুমারী বসু, নারীপ্রগতিমূলক উপন্যাসে শৈলবালা ঘোষজায়া, মানবীবিদ্যাচর্চায় ছবি বসু, আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসে মৈত্রেয়ী দেবী এবং শিশু-কিশোর সাহিত্যে লীলা মজুমদার। গতিশীল ভাষায় তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধগুলি পাঠককে সমৃদ্ধ করে। এক বিশেষ সময়কালের টুকরো ইতিহাসও ধরা পড়ে প্রবন্ধগুলিতে। মানকুমারী বসু এবং শৈলবালা ঘোষজায়া যে ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের উত্তরাধিকারী, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু এই শতাব্দীর আরেক উত্তরাধিকারী স্বর্ণকুমারী দেবী কেন আলোচিত হলেন না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রশ্ন থেকে যায় বিংশ শতাব্দী নিয়েও। আশাপূর্ণা দেবী এবং মহাশ্বেতা দেবীও তো ‘অনন্যা’ই। প্রকাশক করুণা প্রকাশনী, কলকাতা।

 

লোক-উত্‌স

লোকসংস্কৃতিতে ধরা থাকে আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, সৃজনশীলতা এবং জনজাতির নিজস্ব ঐতিহ্য। ‘লোক-উত্‌স’ এক কথায় লোকসংস্কৃতির কোলাজ। ‘উত্তরবঙ্গের উত্তরাংশের অধিবাসীদের’ সংস্কৃতিতে হিমালয়ের প্রভাব, ‘লোকশিল্প’, ‘রবীন্দ্রসাহিত্যে লোকসংস্কৃতির বিবরণ’, ‘ডুয়ার্সের আদিবাসী সম্প্রদায়ের’ জন্ম-মৃত্যু সম্পর্কিত লোকাচার, ‘রাজবংশী সম্প্রদায়ের নারীকেন্দ্রিক ব্রতপালন’ এবং শিশুদের লোকক্রীড়ায় ‘উত্তরবঙ্গের হাতির দাঁতের শাঁখাশিল্প’এমনই সব বিষয়ে আলোকপাত করেছেন আনন্দগোপাল ধোষ, ড. আব্দুর রহিম গাজি, সঞ্চয়িতা রায় এবং পরিমল বর্মণ-সহ বিভিন্ন প্রবন্ধকার। বিষয়সূচিতে স্থান পেয়েছে ইংরেজি, অসমিয়া এবং রাজবংশীর ভাষার প্রবন্ধও। রয়েছে পুস্তক সমালোচনা। সম্পাদকীয়তে পরিমল বর্মণ জানিয়েছেন, পরবর্তী সংখ্যা যাতে আরও সমৃদ্ধ ও তথ্যপূর্ণ হয় সেই আশাতেই পথ চেয়েথাকব। লোক-উত্‌স’র দ্বিতীয় বর্ষের সংকলন যে সমৃদ্ধ এবং তথ্যপূর্ণ, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

 

‘তিস্তানন্দিনী’

লেখা : অনিতা দত্ত

জলপাইগুড়ির ‘তিস্তানন্দিনী’ পত্রিকা গোষ্ঠী ও ‘আনন্দলহরী’ সাংস্কৃতিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তিস্তাপারের পঞ্চবটীতে পালিত হল ‘অমর একুশে’। মাতৃভাষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন তনুশ্রী পাল, ডালিয়া চৌধুরী, আরতি গুহরায়। আবৃত্তি শোনা যায় অনিতা কর্মকার ও পূর্ণিমা বসুর কণ্ঠে। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন অধ্যাপিকা দেবযানী সেনগুপ্ত, কোয়েলা গঙ্গোপাধ্যায় ও মুনমুন ভৌমিক। আনন্দলহরীর কচিকাঁচারা নাচে-গানে-কবিতায় শ্রদ্ধা জানায় ভাষা শহিদদের।

 

দাশুলে বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর

দেখতে দেখতে পঁচাত্তর বছর পার করে গেল ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত বালুরঘাট ব্লকের দাশুল উচ্চবিদ্যালয়। এই উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। অংশ নেন ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক-অভিভাবিকা, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মিবৃন্দ। ছিল ৬ কিমি ম্যারাথন দৌড়। হীরকজয়ন্তী বর্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বালুরঘাটের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার শুভ্রজিত্‌ গুপ্ত। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কল্যাণকুমার কুণ্ডু, ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রবীরকুমার রায়-সহ বিশিষ্ট জনেরা। দুপুরে সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। পরিবেশিত হয় মুর্শিদাবাদের ‘ডগর বাজনা’, মালদহের মটরবাবুর ‘গম্ভীরা’তে ছিল শিক্ষামূলক বার্তা। শিক্ষক প্রণব দাস জানান, পঁচাত্তর বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বছরভর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও নানা জনসেবামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

 

জলপাইগুড়িতে বসন্তোত্‌সব

সপ্তবর্ণে সেজে উঠল দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যা। বর্ণে কখনও সুরের ঝনার্ধারা, সুরের ধারায় সুর মেলালেন মণিস্বীতা নন্দী, মণিদীপা নন্দীবিশ্বাস, শেখর কর, সৈকত ঘোষ, দীপঙ্কর রায়। বর্ণ কখনও বাঙ্ময় স্বরচিত কবিতা পাঠে। শাঁওলি দে, তারাপদ গুহ, রেবা সরকার, কমল ভট্টাচার্য এবং চিত্রা পাল এঁকে দিলেন রঙের বর্ণচ্ছটা। সঙ্গে পূর্ণিমা বসুর আবৃত্তি, কোয়েলা গঙ্গোপাধ্যায়, গৌতম গুহরায় আর গৌতমেন্দু নন্দীর বসন্ত কথা। বাতাসে আবির খেলা। জলপাইগুড়ি ‘রবীন্দ্রবীথি’র  এমন সন্ধ্যা রাঙিয়ে দিয়ে গেল দর্শকদের। রাঙিয়ে দিয়ে গেল শহরের আনন্দলহরীর বসন্তোত্‌সবও। রঙিন বসন্তের দিনে সংস্থার পরিচালনায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, পাপড়ি ভট্টাচার্যের স্বরচিত গীতি আলেখ্য, সোমালি রায়ের নির্দেশনায় কচিকাচাদের রবীন্দ্রনৃত্য, বিকেলের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে রুমকি সাহার পরিচালনায় নৃত্যানুষ্ঠান। প্রাপ্তি, রামধনু রঙিন অনুভূতি। পাপড়ি দেবের পরিচালনায় ‘গীতিকুঞ্জ সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রে’র অনুষ্ঠানও দোলের আগের সন্ধ্যায় শহরের মন ভরিয়েছে।