শিলিগুড়ি থেকে ফের উদ্ধার হল চোরাই সোনা। রবিবার রাতে এনজেপি থানার গোয়ালতুলি মোড় এলাকায় অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় রাজস্ব গোয়েন্দা শাখা (ডিআরআই)। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় চার কোটি টাকার সোনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মায়ানমার থেকে অসম হয়ে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ওই সোনা। সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মিজোরামের তিন যুবককে। সোমবার তাঁদের শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজত মঞ্জুর করেন বিচারক।     

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত তিন যুবকের নাম জোমুয়াংকিমা, রুয়ালসাংপুইয়া এবং লালনেইহলাইয়া। উদ্ধার হওয়া সোনার বাটগুলো ২৪ ক্যারাটের বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। ডিআরআইয়ের আইনজীবী ত্রিদিব সাহা বলেন, ‘‘সোনাগুলো ভারত-মায়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। একটি ছোট গাড়ির সিটের পিছনে লুকিয়ে আনা হচ্ছিল বলে ধরা পড়েছে।’’ গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ৬০টি সোনার বাট মায়ানমারেই তৈরি হয়েছিল। এক একটি বাট ১৬৬ গ্রাম ওজনের ছিল। পরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে সেগুলো মেঘালয়, অসম হয়ে এ রাজ্যে ঢোকে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতেই রবিবার রাতে  অভিযান চালান হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। ডিআরআইয়ের আধিকারিকদের সন্দেহ, কলকাতা থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ওই সোনা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

অভিযুক্তদের হয়ে এ দিন সওয়াল করেন আইনজীবী সুতীর্থ রাহা। তাঁর দাবি, এর আগে একটি আদালতের ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছিল, ৯৯.৯৯ শতাংশ ঘনত্বের সোনা হলে তবেই তা বিদেশি বলে ধরা যাবে। তিনি বলেন, ‘‘ডিআরআই পাচারের অভিযোগ এনেছে। কিন্তু পরীক্ষা করার পরেই এটা পাচার করা হচ্ছিল কিনা তা বলা সম্ভব।’’ ওই আইনজীবীর দাবি, গত কয়েক মাসে সোনা ধরা পড়ার কয়েকটি মামলায় দেখা গিয়েছে, ডিআইরআইয়ের পরীক্ষাতেই সোনার ঘনত্ব ৯৯.৯৯ শতাংশের নীচে ছিল। কিছুদিন আগে সোনা পাচারের মামলায় এনজেপি থেকে এক মহিলা-সহ তিনজন পুরুষকে ধরা হয়েছিল। তাঁরাও একই পথে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সোনা নিয়ে কলকাতায় পাড়ি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ এনেছিল ডিআরআই। তাতেও সোনার ঘনত্ব বিদেশি সোনার থেকে নিচেই ছিল বলে দাবি ওই আইনজীবীর।