মৃত্যু বেড়ে হল তিন। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল এক হাজার। ফলে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল ভুটান সীমান্ত লাগোয়া আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয়। 

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যেই জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে সব সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফেও নেওয়া হচ্ছে ব্যবস্থা। তারপরও এই রোগে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিন্তা বাড়ছে।

২০ অগস্ট জয়গাঁয় ডেঙ্গির প্রথম বলি হতে হয় দশ বছরের একটি শিশুকে। পরবর্তীতে জ্বরে আক্রান্ত এলাকার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। সম্প্রতি তাদের রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা নিশ্চিত, ডেঙ্গিতেই ওই দুই শিশুরও মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি মতে অবশ্য জয়গাঁতে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি দাবি করা হয়েছে।

শুধু মৃত্যুই নয়, ডেঙ্গিতে আক্রান্তের হারও ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় চিন্তা বাড়ছে স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, গোটা জেলায় ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার তিনশো জন। এরমধ্যে জয়গাঁতেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। যার মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।

জয়গাঁতে ডেঙ্গি মোকাবিলায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে এলাকার সর্বত্র জমা জল ফেলার কর্মসূচি নিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। গত দু’সপ্তাহ সোমবার করে হয়েছিল সেই কর্মসূচি। কিন্তু করম পুজো ও মহরমের জন্য এ সপ্তাহে সোমবারের বদলে আজ, বুধবার এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দফতরের কর্তারা। জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, ‘‘গত দুই সপ্তাহের চেয়ে আরও বড় করে আজকের কর্মসূচি আমরা বাস্তবায়িত করতে চাইছি।’’ ওই কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা।

এ দিকে, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে ভুটান সীমান্তে আরও একটি ক্রস বর্ডার হেল্থ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। জেলার স্বাস্থ্যকর্তারা জানিয়েছেন, এরফলে ফুন্টশিলিং থেকে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে কেউ জয়গাঁয় এলে তাকে চিহ্নিত করা অনেকটাই সহজ হবে। এ ছাড়া জয়গাঁ উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হয়েছে।