লক্ষ্মীপুজোর রাতেই চোর সন্দেহে দুই যুবক গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন ইংরেজবাজার শহরের পিরোজপুরে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এই শহরেরই গৌড় রোড বাশুলিতলা এলাকায় গণপিটুনির ঘটনা। সোমবার রাতে মোবাইল চোর সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মারের চোটে অচেতন হয়ে পড়া ওই যুবককে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গণপিটুনির শিকার ওই যুবকের নাম গোপাল মণ্ডল। তাঁর বাড়ি ইংরেজবাজার সংলগ্ন যদুপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের গাবগাছি এলাকায়। এদিকে, ফের শহরের জনবহুল এলাকায় পর পর গণপিটুনির ঘটনায় বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা প্রচার চালাবে তারা।  

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শহরের বাশুলিতলা এলাকায় নিজের ওষুধের দোকানের কাউন্টারে বসেছিলেন ওষুধ ব্যবসায়ী গায়ত্রী দাস। সেই সময় গোপাল তাঁর মোবাইল ফোনটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। আশপাশ থেকে কয়েকজন এসে গোপালকে আটকান। তাঁদের অভিযোগ, গোপালের আরও দুই সঙ্গী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। গোপালও পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাঁকে ধরে মারধর শুরু করে দেন। মারের চোটে গোপাল সেখানেই অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি খারাপ বুঝে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। গোপালকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে এলাকার একাংশ বাসিন্দাদের  তর্ক-বিতর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশই গোপালকে উদ্ধার করে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

ওষুধ ব্যবসায়ী গায়ত্রীর অভিযোগ, ওই যুবকটি দোকানের সামনে বসেছিলেন। তিনি অন্য একজনের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকেই তাঁর মোবাইল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন যুবকটি। তবে তার পরের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি গায়ত্রী। গণপিটুনি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে শহরের বাসিন্দা বারীন ঘোষ বলেন, ‘‘দু’দিন আগেই গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছিল। ফের ঘটল। এটা একেবারেই অনভিপ্রেত। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনওই উচিত নয়। মানুষের আরও সহনশীল হওয়া দরকার।’’ পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালে ওই যুবকের চিকিৎসা চলছে।