দলে মর্যাদা পেতেই রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ‘কুখ্যাত’ হওয়ার চেষ্টায় নির্বাচন বিধি ভেঙে মন্তব্য করেছেন বলে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। সোমবার কোচবিহারের পুরান পোস্টঅফিস পাড়ার মাঠে নির্বাচনী সভা করেন। সেখানে তিনি বলেন, “তৃণমূলে মর্যাদা পেতে হলে কুখ্যাত হতে হয়। সে জন্যই রবীন্দ্রনাথবাবু নানা মন্তব্য করছেন। তিনি কুখ্যাত হয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।” তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথবাবু অধীরবাবুর বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “অধীরবাবু নিজেই এক জন কুখ্যাত লোক। বাংলার মানুষ তা জানেন। তাঁর দল কোচবিহারে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে। অধীরবাবুর সভায় হাতে গোনা কিছু লোক গিয়েছে। তাও পুরসভা এলাকার বাইরে থেকে লোক আনতে হয়েছে। তাঁর ওই বক্তব্য কেউ মেনে নেবে না।”

রবীন্দ্রনাথবাবু এ দিন তাঁকে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের একটি নোটিসের জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি নির্বাচন বিধি ভাঙিনি। যুক্তিসঙ্গত কথা বলেছি। আমার কথার ভুল ব্যাখা করা হয়েছে। নির্বান কমিশনের প্রথম চিঠির উত্তর দিয়েছি। বাকি চিঠির উত্তর দেব।” কোচবিহার সদরের মহকুমাশাসক তথা নির্বাচনী আধিকারিক বিকাশ সাহা বলেন, “রবীন্দ্রনাথবাবুকে পাঠানো প্রথম নোটিসের জবাব পেয়েছি। তা জেলাশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে।”

গত ৩ এপ্রিল কোচবিহারে সুকান্ত মঞ্চে কর্মিসভা করে তৃণমূল। সভায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধায় উপস্থিত ছিলেন। পার্থবাবুর সামনে রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন,  “হাত জোড় করে বলছি, সবাই মিলে এক সঙ্গে এককাট্টা হয়ে জোড়াফুল চিহ্নে ভোটটা দেবেন এবং দেওয়াবেন। ভোট দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক এবং অন্য যে সব মদত প্রয়োজন হবে, সব করব। পঞ্চায়েতে করেছি, লোকসভায় করেছি। যে কোনও মদত করব। কিন্তু জিততে হবে। জেতার জন্য যা যা দরকার তাই তাই করতে হবে।” পরে বক্তব্য দিতে উঠে পার্থবাবু জানান, কোনও প্রশাসনিক মদত দেওয়া হবে না। রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য জানান, তিনি সন্ত্রাস রুখতে প্রশাসনিক মদতের কথা বলেছেন। বাম আমলে যে ভাবে সন্ত্রাস করে ভোট হতো তৃণমূল সরকারের আমলে তা হয় না। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে বলেই তা হয় না। তিনি এটাই বলেছেন।