মণ্ডপে মণ্ডপে উদ্বোধন শুরু হবে আজ শনিবার থেকে। বেশ কিছু মণ্ডপে প্রতিমা চলেও এসেছে। সেই সঙ্গেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন। কোথাও পিচ ঢেলে রাস্তার খানাখন্দ বোজানোর কাজ চলছে। কোথাও নর্দমা, মাঠ সাফসুতরো করার কাজ চলছে। ডেঙ্গির প্রকোপ এখনও কিছু এলাকায় চলছে বলে দাবি। মণ্ডপের আশেপাশে যাতে জমা জল না থাকে সে দিকেও নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর। পুজোর আগে কেনাকাটার ভিড়ে উপচে পড়ছে রাস্তা। বাড়ছে চুরি ছিনতাইয়ের আশঙ্কা। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি অভিযোগও জমা পড়েছে। তাই পুজোর ক’দিন শহর-গ্রাম-জনপদ শান্তিতে রাখতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশও।

পাকড়াও হাজার   

পুজোর মুখে কোচবিহার জেলা জুড়ে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিদিন একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এবং অন্যান্য দুষ্কৃতীদের মিলিয়ে ৭০ থেকে ৯০ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ৫০০ জনের উপরে গ্রেফতার হয়েছে কোচবিহার জেলায়। শুধু কোতোয়ালি থানাতেই এক সপ্তাহে ৮০ জনের উপরে গ্রেফতার রয়েছে। ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে আলিপুরদুয়ারে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার সুনীল যাদব জানিয়েছেন, গত ১ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে জেলায় প্রায় ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ পুলিশ সূত্রের খবর, এর মধ্যে অনেকেরই পুরনো গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে৷ এ ছাড়া নতুন বিভিন্ন মামলা ও মদ্যপ অবস্থাতেও অনেককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ পুজোর আগে মালবাজার মহকুমা জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে।  মালবাজার, মেটেলি, নাগরাকাটা থানা এলাকায় গোলমাল পাকাতে পারে সন্দেহে একাধিক পুরানো মামলা রয়েছে এমন ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জুয়া, মদের আসর বসানোর মত একাধিক অভিযোগে এখনো অবধি মালবাজারের ২১ জন আটক হয়েছে। মালবাজারের এসডিপিও দেবাশিস চক্রবর্তী জানান রাতভর পুলিশ মোবাইল ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। 

সাদা পোশাকে

পুজোর দিনগুলিতেই কড়া নজরদারি রাখা বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে। ছিনতাই-ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনা রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে। এ ছাড়াও শহরের একাধিক জায়গায় থাকবে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন। কোচবিহার জেলা পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে বলেন, “কোনওরকম অপরাধমূলক কাজ যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” জেলা প্রশাসনের তরফেও নজরদারি থাকবে। প্রাকৃতিক বিপর্য়য় মোকাবিলা টিম ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুজোর সময় ইভটিজিং রুখতে প্রতিটি থানাতে আলাদা অ্যান্টি ইভটিজিং স্কোয়াড তৈরি করছে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশও৷ ওই স্কোয়াডে সামনের সারিতেই থাকবেন মহিলা পুলিশ কর্মীরা৷ যাদের বেশিরভাগই সাদা পোশাকে মানুষের ভিড়ে মিশে থাকবেন৷ সেইসঙ্গে স্কোয়াডে থাকা উর্দিধারী পুরুষ পুলিশ কর্মীরা তাঁদের উপরে নজর রেখে চলবেন৷ জেলার প্রতিটি থানায় এই স্কোয়াড তৈরি হলেও বড় পুজো বেশি থাকায় আলিপুরদুয়ার শহর ও ফালাকাটাতে এই স্কোয়াডকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে৷

চিন্তায় চিকিৎসা

পুজোয় চিন্তা বেড়েছে চিকিৎসা নিয়ে। শল্যচিকিৎসা বিভাগ চালু রাখা নিয়ে চিন্তায় কোচবিহার জেলা সদর এমজেএন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দু’জন সার্জারি বিশেষজ্ঞ আছেন। একজন ছুটিতে। এ ছাড়া আরও ১০ জন ছুটির আবেদন করেছেন। সুপার জয়দেব বর্মণ বলেন, “সাধ্যমত সব বিভাগ সচল রাখার চেষ্টা করছি।” ওই হাসপাতালে মোট ডাক্তার আছেন ৬০ জন। এমনিতেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম৷ তার ওপর পুজোর সময় প্রতিবারের মত এ বারও চিকিৎসকদের একাংশ ছুটি নিচ্ছেন বলে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর৷ তবে পুজোর কদিন তার প্রভাব চিকিৎসা পরিষেবায় পড়বে না বলেই দাবি জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের৷ আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পূরণ শর্মা বলেন, ‘‘ইতিমধ্যেই সমস্ত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পুজোর কদিনের ডিউটি রোস্টার তৈরি হয়ে গিয়েছে৷’’ অষ্টমী বাদে প্রতিদিন হাসপাতালে আউটডোর পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে৷ জরুরি পরিষেবা যেমন চলে তেমনই চলবে বলে জানান তিনি৷