বিজেপি করায় বাড়ির সামনে এসে তৃণমূলের কর্মীরা সেই পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করছিলেন বলে অভিযোগ। তার প্রতিবাদ করায় হাঁসুয়া দিয়ে প্রতিবেশী মহিলা বিজেপি কর্মীর কান কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তেরা ওই মহিলার সোনার অলঙ্কার ছিনতাই করে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগ। রাতেই অঞ্জনাকে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে ভর্তি করানো হয়। তাঁর কানে ছ’টি সেলাই পড়েছে।

বুধবার রাতে রায়গঞ্জ থানার কর্ণজোড়া কালীবাড়ি এলাকার ঘটনা। জখম অঞ্জনা দাস এলাকারই বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সুকুমার দাস অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ওই তিন তৃণমূল কর্মীর নাম পুচকি মালাকার, ষষ্ঠী মালাকার ও বুরোন মালাকার। পুচকির স্বামী ষষ্ঠী। বুরোন তাঁদের মেয়ে। ওই রাতেই অঞ্জনা, সুকুমার ও তাঁদের জামাই ভজনের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে তাঁদের পাল্টা মারধর ও অলঙ্কার ছিনতাইয়ের অভিযোগ করেছেন পুচকি। বৃহস্পতিবার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ হলেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

এলাকারই বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের তৃণমূলের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ পূর্ণেন্দু দের দাবি, পুরনো শত্রুতার জেরে প্রতিবেশী দু’টি পরিবারের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই। বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দামের বক্তব্য, অঞ্জনা ও তাঁদের পরিবারের লোকেরা বিজেপি কর্মী। তবে অঞ্জনার উপরে হামলার ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই।

সুকুমারের অভিযোগ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পুচকি, ষষ্ঠী ও বুরোনের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে এসে তাঁদের নাম ধরে গালাগালি করেন। কেনও তাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তাঁরা। সেইসময় সুকুমার ও অঞ্জনা বাড়ি থেকে বাইরে বার হয়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। তখনই অভিযুক্তেরা অঞ্জনাকে মারধর করে হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করে তাঁর ডান কানের একাংশ কেটে দেন। এরপর তাঁরা অঞ্জনার গলার সোনার হার, নাকের ও কানের দুল ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।