• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অরিন্দম-কাণ্ডের পর বন্ধ পুজো

লাটাগুড়ির নেতাজি সঙ্ঘের পুজো বন্ধ করে দিল প্রশাসন। চাঁদার দাবিতে চিত্র পরিচালক অরিন্দম শীলকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে এই ক্লাবের কর্তাদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর পরেই রাতারাতি ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলাশাসক মুক্তা আর্য বলেন, ‘‘অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ-প্রশাসন আইন মেনে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তাই নিচ্ছে।’’

সরকারি সূত্রের খবর, মালবাজার ব্লক প্রশাসনের দফতরে নেতাজি সঙ্ঘের তরফে অনুমতি চেয়ে কোনও আর্জি জমা পড়েনি। এ দিনই ক্লাবের তরফে পুজোর অনুমতির জন্যে নিয়ম মেনে আবেদন করার কথা ছিল। কিন্তু পুজো হচ্ছে না বুঝতে পেরে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয়নি তারা। এদিকে যে রিসর্টটিতে চাঁদা নিয়ে গোলমাল হয়, সেখানকার সিসি টিভি ক্যামেরার কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ১১জন ক্লাব সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 বুধবার রাত থেকেই এই অভিযুক্তদের খোঁজে তাদের বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায়নি। এদের মধ্যে অনেকের ব্যবসা রয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের দোকানও বন্ধ ছিল। পুরনো মন্দিরের আদলে এ বার মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছিল এখানে। বাজেট পাঁচ লক্ষ টাকা। এই মণ্ডপ নির্মাণের কাজও বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ হয়ে যায়। প্যান্ডেলের জন্যে আনা অতিরিক্ত বাঁশ সরিয়ে নিতে দেখা যায় নির্মাণকর্মীদের। এ দিকে ক্লাবটির পরিচালন কমিটিতে তৃণমূলের স্থানীয় বেশ কিছু নেতা থাকায় অস্বস্তি তৈরি হয়েছে দলের জেলা কমিটিতেও। যদিও মুখে তাঁরা জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে তৃণমূলকে জড়ানো ঠিক নয়।

পুজো কমিটির সম্পাদক জগবন্ধু সেন, রাকেশ লস্করদের দাবি, ‘‘অরিন্দমবাবুর সঙ্গে তেমন কিছু অভব্য আচরণ করা হয়নি। কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র। এতে পুজো বন্ধের মানে হয় না।’’ পুজো যাতে বন্ধ না হয় সে দিকে নজর দেওয়া উচিত বলে জানান লাটাগুড়ির তৃণমূল নেত্রী তথা মালবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মহুয়া গোপ। তবে পুজো বন্ধের বিষয়টিকে সামনে রেখে নিস্কৃতি মিলবে না বলে মনে করেন পরিচালক অরিন্দমবাবু। তিনি বলেন, ‘‘লাটাগুড়ির বহু মানুষ আমার এই প্রতিবাদকে সমর্থন করেছেন। লাটাগুড়ি এবং ডুয়ার্সে পর্যটনের স্বার্থেই আমি প্রতিবাদ করেছি। এখান থেকে সরে আসার কোনও প্রশ্ন
উঠছে না।’’

মঙ্গলবার রাতে চাঁদার দাবিতে লাটাগুড়ির একটি রিসর্টে ঢুকে এখানে শ্যুটিং করতে আসা পরিচালক অরিন্দম শীলকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে।  কাজ শেষের পর ইউনিটের অন্যান্য কর্মীরা মঙ্গলবার ফিরে গেলেও প্রযোজনা সংস্থার এক কর্তা সহ অরিন্দম শীল, সোহিনী সরকার ও কয়েকজন অভিনেতা থেকে গিয়েছিলেন। বুধবার বাগডোগরা থেকে কলকাতার বিমানের টিকিট কাটা ছিল তাঁদের। তাঁরা ফিরে যাবেন জেনেই মঙ্গলবার রাতেই চাঁদা চাইতে আসেন নেতাজি সঙ্ঘের সদস্যরা। অরিন্দমবাবুর অভিযোগ, রিসর্টে ঢুকেই ২০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়ে বসেন ক্লাব কর্তারা। প্রযোজক সংস্থার কর্তার সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু হয়। তাঁরা কয়েকজন একটি ঘরে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ক্লাবের কয়েকজন সেখানে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন। এমনকি, চাঁদা নিয়ে প্রতিবাদ করলে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন