আজ, রবিবার সকালেই গ্রামে পৌঁছবে কাশ্মীরে পাক-গুলিতে হত সেনা জওয়ান রাজীব থাপার দেহ। তারই অপেক্ষায় শনিবার কার্যত রাত জাগল মেচপাড়া। শনিবার বিকেলে দেহ এসে পৌঁছয় বাগডোগরায়। সেখান থেকে তা বেংডুবির সেনা ছাউনিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার ভোররাতে মারা যান রাজীব। সেই খবর আসতেই দলে দলে লোক ভিড় জমান মেচপাড়া চা বাগানের ৮ নম্বর লাইনে রাজীবের বাড়ির সামনে। শনিবারও সকাল হতে না হতে রাজীবকে শেষবারের মতো একবার দেখার আশায় ভিড়টা আরও কয়েকগুন বেড়ে যায়। সেনা আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর রাজীবের পরিবারের লোকেরা জানান, রবিবার সকালে হেলিকপ্টারে রাজীবের দেহ মেচপাড়াতে আসবে। সেজন্য এ দিন বাগানের ফুটবল মাঠে অস্থায়ী একটি হেলিপ্যাডও তৈরি করা হয়। তারপরও অবশ্য ভিড় কমেনি। রাজীবের অপেক্ষায় অনেকেই শনিবারের রাতও জেগে কাটিয়ে দেন। স্থানীয় চুয়াপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান ভগবতী ওরাওঁ বলেন, ‘‘শুধু মেচপাড়া নয়, আশপাশের সব এলাকার মানুষই একটি বারের জন্য দেশের বীর সন্তান রাজীবকে দেখতে চাইছেন।’’

এ দিন রাজীবের পরিজনরা তাঁর স্ত্রী ও মাকে রাজীবের মৃত্যুর কথা জানান। রাজীবের এক মামার কথায়, ‘‘খবরটা শোনার পর বিশ্বাসই করতে চাইছিলেন না তাঁর স্ত্রী। পরে শোকে কার্যত পাথর হয়ে চুপ করে বসে ছিলেন তিনি।’’ এ দিন রাজীবের বাড়িতে যান বিজেপি সাংসদ জন বার্লা। রবিবারও তিনি সেখানে থাকবেন। রাজীবের বাড়িতে এ দিনও গিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। সকলেই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।