২১ জুলাই কলকাতায় রেকর্ড সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে নিয়ে যেতে চাইছেন তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ। সভাপতি হওয়ার পর এই প্রথম ২১ জুলাই জেলা থেকে সমর্থকদের নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র আগে এই দায়িত্ব পালন করতেন। অর্পিতার দাবি, তিনি আগের চেয়েও অনেক বেশি লোক নিয়ে গিয়ে রেকর্ড করবেন।

অর্পিতা মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমরা ৭০ হাজার কার্ড বিলি করেছি। এর বেশি সর্মথক কলকাতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ট্রেনে এর চেয়ে বেশি লোকজন নিয়ে যাওয়া কঠিন। এর আগে অনেকে মুখে লক্ষ লক্ষ সমর্থক নিয়ে যাওয়ার দাবি করতেন, সেটা একদমই সত্যি নয়। এবার যত সমর্থক যাবেন, সেটাই হবে জেলা থেকে এ যাবৎ কালে শহিদ দিবসে যাওয়া সর্বাধিক সমর্থক।’’ আগে ‘লক্ষ লক্ষ সমর্থক নিয়ে যাওয়ার দাবি’ কি বিপ্লব করতেন? এ কথার সরাসরি কোনও জবাব দেননি অর্পিতা। তবে তিনি জানান, আগে কেউ তো করতেন এ ধরনের দাবি! তৃণমূল সূত্রের খবর, দলের এই ‘শহিদ দিবস’কে সামনে রেখে নিজের সাংগঠিক দক্ষতা প্রমাণ করতে চাইছেন নতুন জেলা সভাপতি। ইতিমধ্যে তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষদের দলে ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। পাশাপাশি, বিজেপির ঘর ভাঙিয়ে পঞ্চায়েত সদস্যদেরও তৃণমূলে সামিল করে সাংগঠিক তৎপরতার প্রমাণ দিয়েছেন তৃণমূলের এই নাট্যকর্মী নেতা। এবার ২১ জুলাইয়েও রেকর্ড সংখ্যক কর্মী নিয়ে গিয়ে নিজের প্রভাব প্রমাণ করতে চাইছেন তিনি। এ জন্য গত দু’সপ্তাহ থেকেই প্রস্তুত হচ্ছেন তিনি। 

জেলার ৬৫টি অঞ্চলে অঞ্চল কমিটির নেতাদের নিয়ে অর্পিতা নিজে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া ব্লক, তিনটি শহর কমিটি নিয়েও একাধিকবার বৈঠক করছেন তিনি। সেখানে কলকাতায় উপস্থিত থাকার বার্তা দিয়ে বেশি সংখ্যায় কর্মীদের হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের আজ, বুধবার থেকেই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কলকাতায় কর্মীদের থাকার জন্য সল্টলেকে ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মঙ্গলবার রাতেই কর্মীদের থাকার সেই ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে কলকাতা রওনা দেন অর্পিতা। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতায় গিয়ে জেলার কর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন। 

এদিকে, নিজে সমস্ত ব্যবস্থা করলেও ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে হয়তো অর্পিতা থাকবেন না। কারণ, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আত্রেয়ী, পুনর্ভবা, টাঙন নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। এই অবস্থায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলে অর্পিতা দলীয় অনুষ্ঠান ছেড়ে জেলায় ফিরে আসবেন।