রায়গঞ্জের কুমারডাঙ্গিতে ব্যবসায়ী প্রকাশ আগরওয়ালকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তাঁর পরিবার। সোমবার সকাল থেকেই ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির মূল দরজা বন্ধই ছিল। আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠেরা ছাড়া অন্য কেউ এ দিন বাড়িতে ঢোকার অনুমতি পাননি। ওই এলাকাও ছিল কিছুটা থমথমে। 

পরিবারের লোকেদের নিরাপত্তার জন্য এ দিন সকাল থেকেই ওই বাড়ির গেটের সামনে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ তাঁর পরিবার। প্রকাশের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে শিলিগুড়ির বেসরকারি হাসপাতালে প্রকাশের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পুলিশের দাবি, প্রকাশের শরীরে গুলি মেলেনি। দুষ্কৃতীরা ধারালো কোনও অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই হাত, ঘাড় ও গলার নীচের অংশে আঘাত করেছে।

যদিও বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা ওই ব্যবসায়ীকে লক্ষ করে গুলি চালিয়েছিল। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’’

প্রকাশের মা লীলাদেবীর বক্তব্য, ‘‘ছেলের উপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সকলে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। ফের হামলার আতঙ্কে দরজা খুলতে ভয় হচ্ছে। বাড়ির বাইরে দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার থাকলেও সশস্ত্র কোনও পুলিশকর্মী দেওয়া হয়নি।’’

তিনি বলেন, ‘‘ছেলে ও স্বামীর উপর হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পুলিশ দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে পারল না। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আধিকারিকেরা একাধিকবার বাড়িতে এসে আমাদের কাছ থেকে দুষ্কৃতীদের বর্ণনা শুনেছেন। দুষ্কৃতীদের ধরতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।’’

পুলিশের সন্দেহ, সুদের টাকার লেনদেন নিয়ে গোলমালের জেরে দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। আহত ব্যবসায়ী সুস্থ হলে দুষ্কৃতীদের নাম-পরিচয় জানাতে পারবেন বলে ধারণা তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের।