যার যৌন নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, বালুরঘাটের চাইল্ডলাইনের আবাসিক সেই বাংলাদেশি কিশোরী তিন মাস ধরে নিখোঁজ! 

রায়গঞ্জের দেবীনগর এলাকার একটি সরকারি হোম কর্তৃপক্ষ এই খবর দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, হোম থেকে গত ৬ মে অসুস্থ ওই কিশোরীকে রায়গঞ্জ জেলা হাসাপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তারপর থেকেই ১৬ বছরের ওই কিশোরীর কোনও হদিশ নেই বলে অভিযোগ। কিশোরীর রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজের ঘটনায় চরম প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।        

অভিযোগ, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে বালুরঘাটের চাইল্ডলাইনের হেফাজতে থাকাকালীন ওই কিশোরীর যৌন নিগ্রহ করে সেখানকারই কর্মী বেলাল হোসেন। সেই সময় ডিএসএলের (ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটি) তরফে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলার পরই বিষয়টি সামনে আসে। ওই সেপ্টেম্বর মাসেই চাইল্ডলাইন থেকে ওই কিশোরীকে দেবীনগর এলাকার সিএনসিপি হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বছর ৬ মে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই কিশোরীকে হোম থেকে ৬ মে রায়গঞ্জ জেলা হাসাপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এ দিন সেই প্রসঙ্গে ওই সরকারি হোমের সুপার ঋতুপা দাস বলেন, ‘‘৭ মে নিখোঁজের ঘটনাটি জানার পর হোমের তরফ থেকে রায়গঞ্জ থানায় কিশোরীর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।’’ তবে এখনও ওই কিশোরীর হদিশ মেলেনি বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ হাসপাতালের সুপার গৌতম মণ্ডলের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কলকাতায় ছুটিতে আছেন বলে জানান। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি তাঁর মনে নেই। হাসপাতালে ফিরে খোঁজ নিয়ে জানাবেন। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালিত চাইল্ডলাইনের উত্তরবঙ্গ জোনের কোঅর্ডিনেটর বিমান মণ্ডল এ দিন জানান, সম্প্রতি তাঁরা নিখোঁজের বিষয়টি জেনেছেন। তবে তিনি এটাও জানান, হোমের হেফাজত থেকে কিশোরী নিখোঁজ হওয়ায় তাঁদের কিছু করার নেই। তবে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত চাইল্ডলাইন কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত ১৭ জুলাই চাইল্ডলাইন কার্যালয়ে তদন্তে যান বালুরঘাটের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার জয়িতা মুখোপাধ্যায়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। তার পর থেকে প্রশাসনের তরফে উচ্চবাচ্য নেই বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার জয়িতা মন্তব্য করতে চাননি। অতিরিক্ত জেলাশাসক প্রণব ঘোষ বলেন, ‘‘ওই ঘটনা নিয়ে সি়ব্লিউসি এবং জেজেবিকে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’’ তদন্তও শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।