দেশ জুড়ে ধর্মঘটে সামিল চিকিৎসকরা৷ যার জেরে বন্ধ সরকারি হাসপাতালের আউটডোর৷ কিন্তু ধর্মঘটে সামিল হয়েও রোগীদের কথা মাথায় রেখে নতুন দিশা দেখালেন আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷ আন্দোলনের জেরে আউটডোরে না বসলেও, নিজেরাই বিকল্প আউটডোর খুলে রোগী দেখলেন তাঁরা৷ ফলে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে ফালাকাটা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল কিংবা বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ হাসপাতাল বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়া সমস্ত রোগীই পেলেন স্বাস্থ্য পরিষেবা৷

এনআরএস কাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মতো আলিপুরদুয়ারেও সরব হয়েছেন চিকিৎসকরা। তার জেরে এর মধ্যেই এক দিনের জন্য আউটডোর কিংবা প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ রেখে এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন তাঁরা৷ কিন্তু সোমবার দেশজোড়া ধর্মঘটে সামিল হয়েও একটু অন্য পথে হাঁটলেন জেলার বেশিরভাগ সরকারি চিকিৎসক৷ এ দিনও আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে আউপডোর খোলা ছিল৷ কিন্তু ধর্মঘটে সামিল হওয়ায় সেখানে বসেননি চিকিৎসকরা৷ বেশিরভাগ চিকিৎসক প্রাইভেট চেম্বারেও বসেননি৷ তবে হাসপাতালে আসা রোগীদের যাতে ফিরে যেতে না হয়, সে জন্য আউটডোরের সামনে ত্রিপল টাঙিয়ে রোগী দেখলেন তাঁরা।

আইএমএ-র জেলা সম্পাদক যুধিষ্ঠির দাস বলেন, “আমরাও দেশ জুড়ে চলা ধর্মঘটে সামিল হয়েছি৷ সে জন্য এ দিন আউটডোরে বসিনি৷ কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, আলিপুরদুয়ার মূলত সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপরেই নির্ভরশীল৷ তাই যে সব রোগী এদিন হাসপাতালে এসেছেন, আউটডোরের বাইরে খোলা জায়গায় তাঁদের দেখেছি৷”

ফালাকাটা সুপার স্পেশ্যালিটিতেও একটি ছাউনির নীচে বা বীরপাড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে করিডরের মধ্যে বসে চিকিৎসকরা রোগী দেখেন৷ ফালাকাটার সুপার চন্দন ঘোষ বলেন, ‘‘চিকিৎসকদের আন্দোলন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়৷ তাই এই আন্দোলনে জেরে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হোন, সেটাও আমরা চাইনি৷ সে জন্যই এই ব্যবস্থা৷’’

একই ভাবে জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেও বিকল্প আউটডোরের ব্যবস্থা করেন চিকিৎসকরা৷ তবে কোথাওই আউটডোরের মতো টিকিট ইস্যু করা হয়নি৷ চিকিৎসকরা সাদা কাগজে রোগীদের ওষুধ লিখে দেন৷

খুশি রোগীরা৷ ননদের মেয়েকে নিয়ে জেলা হাসপাতালে আসা প্রণিতা রায় বলেন, ‘‘এখানে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কটা অন্য রকম৷ তাই এটা সম্ভব হয়েছে৷’’ জেলা হাসপাতালের সুপার চিন্ময় বর্মণ বলেন, “ধর্মঘটে সামিল চিকিৎকরা পরিষেবা দেওয়ায় আমরাও খুশি৷”