২৩ মাসের শিশুকে স্বামীর কোলে দিয়ে কখনও মাইকটা হাতে ধরে এক নাগাড়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে বক্তব্য রেখে গিয়েছেন, কখনও বাচ্চাকে কোলে নিয়েই বাড়ি বাড়ি প্রচার সেরেছেন। সংসারের যাবতীয় কাজ করে, ছোট্ট অমৃতকে সামলে ভোটের দায়িত্ব শক্ত হাতে সামলে গেলেন কুশমণ্ডির ১ নম্বর জেলা পরিষদের সিপিএম প্রার্থী সুলতা দাস দত্ত। প্রচার শেষ হলেও সকালেই বাচ্চাকে খাইয়ে বিভিন্ন বুথের ভোটার লিস্ট নিয়ে কোথায় কেমন ভোট হতে পারে তা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন এই ‘মা’ প্রার্থী।

সংসার, সন্তান সামলে পঞ্চায়েত ভোটের এই প্রার্থীরাই এ বার বিশ্ব মাতৃ দিবসের মুখ জেলার গ্রামে-গঞ্জে। এত কিছু একসঙ্গে সামলান কী ভাবে? সুলতার উত্তর, ‘‘আমার ছেলেকে দেখেই প্রেরণা পাই। স্বামীও খুবই সাহায্য করেন।’’সুলতার স্বামী মৃণাল দত্ত কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী বিরোধী দলনেতা। সংরক্ষণের জেরে স্ত্রীকেই প্রার্থী করেছেন।

জেলা পরিষদের এই আসনের শাসকদলের প্রার্থী কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী সভাপতি মিঠু জোয়ারদার। এ রকম হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে জীবনে প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন সুলতা। কিন্তু যে ভাবে দুধের শিশুকে কোলে নিয়েই এই আসনের ৭৭টি বুথেই ঘুরেছেন সুলতা, তাতে নেতারাও তাঁর জয় নিয়ে যথেষ্টই আশাবাদী।

স্বামী, দুই সন্তান ও শ্বশুরকে নিয়ে সংসার। ছেলের বয়স চার বছর হলেও মেয়ের বয়স মাত্র আট মাস। এই পরিস্থিতিতেও মালদহ জেলা পরিষদের ৩৭ নম্বর আসনের তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন কালিয়াচক ৩ ব্লকের নন্দলালপুরের বধূ শেফালী মণ্ডল সরকার। মনোনয়ন জমা করার পর থেকেই সকাল থেকে রাত অবধি মেয়ে নীলাশা, তাঁর কোলেই ঘুরেছে। মাতৃ দিবস নিয়ে প্রশ্ন করতেই শেফালীর সপ্রতিভ জবাব, “ভোট লড়াইয়ে যখন নেমেছি, তখন মাঝপথে তো থেমে থাকা যায় না। তাই এ দিনও কোলের মেয়েকে নিয়েই দলীয় ক্যাম্পগুলিতে ঘুরছি, কর্মীদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি।’’

বিড়ি বেঁধে কষ্টের মধ্যে সংসার চলে। বিড়ি তৈরির মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে বরাবর তিনি সরব। এ বারে দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি ব্লকের ১১ নম্বর জেলাপরিষদ আসনে তৃণমূলের প্রার্থী গৌরী মালির লড়াইয়ে বুক বাঁধছেন এলাকার মহিলা বিড়ি শ্রমিকেরা। এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। নবম শ্রেণির ছেলেকে নিয়ে সংসার সামলে, ভোট প্রচারের ব্যস্ততাতেও গৌরীর ধৈর্য ও স্নেহশীলতা মায়ের লড়াইয়ের কথাই মনে পড়িয়ে দেয় পড়শিদেরও। এলাকার জ্যোৎস্না মালি, মিঠু মালির কথায়, ‘‘লাগাতার সব ঝক্কি সামলেও দিদির মুখে হাসি লেগে থাকে।’’

আর এক দিকে, রবিবার শহরের কলেজ কেন্দ্র থেকে দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে বালুরঘাটের বোল্লা অঞ্চলের শরণগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ারা পারভিন। কোচবিহারের বাসিন্দা আনোয়ারা চার বছর হল পুলিশ লাইনে রিজার্ভ পুলিশ হয়ে ডিউটি করছেন। ভোটের কাজে জেলায় পুলিশ কর্মীর সংখ্যা কম। তাই কোলের শিশুকে নিয়েই ডিউটিতে নেমে পড়েছেন এই মা-ও।