• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

মিছিলে খুশি, তবু চিন্তায় বিজেপি

Dilip Ghosh
প্রতীকী ছবি।

Advertisement

বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে ফালাকাটায় নিজেদের শক্তি যাচাই করতে বিজেপির সিদ্ধান্ত ছিল, মিছিলে বাইরে থেকে লোক আনা হবে। বুধবার নয়া নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে ডাকা সেই মিছিলে ভিড় ‘ভালই’ হয়েছে বলে দাবি বিজেপির। তবে আলিপুরদুয়ার থেকে কালচিনি, মাদারিহাট থেকে কুমারগ্রামের কর্মী-সমর্থকদেরও গাড়িতে চাপিয়ে ফালাকাটায় আনতে দেখা গিয়েছে। ফালাকাটা শহরের দু’ধারে বিজেপির পতাকা লাগানো সেইসব গাড়ির সারি দেখা গেল। 

বুধবার ফালাকাটায় ‘অভিনন্দন যাত্রা’ কর্মসূচি ছিল বিজেপির। অংশ নেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপির মিছিলের জেরে এ দিন যানজট হয় শহরে। এই মিছিল নিয়ে পুলিশের অনুমতি ছিল না। তা নিয়ে প্রশাসনকে আক্রমণ করেছেন দিলীপ। তিনি বলেন, “রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, লোকের অসুবিধে হচ্ছে আমরা জানি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ ঠিক করেছে, সভার অনুমতি যারা চাইবে তাদের দেওয়া হবে না। আমরা চাই। আমাদের দেয়নি। তাই আমরা ঠিক করেছি, এরপর আর অনুমতি চাইব না। তাহলে আমরা যেখানে ইচ্ছে সেখানেই সভা করতে পারব।’’ 

বিজেপি নেতারা ভিড় দেখে খুশি। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিছিলের ভিড়ের ছবিও প্রকাশ করেছেন অনেকে। যদিও  তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুল গোস্বামীর দাবি, “বেশি ভিড় হয়নি। যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের বেশিরভাগই বহিরাগত।’’ তবে এনআরসি এবং সিএএ-এর পরে ফালাকাটার ভোট নিয়ে বিজেপি যে যথেষ্ট চিন্তিত, তা দলের নেতাদের বক্তব্যেই প্রকাশ পেয়েছে বলে দাবি দলের কর্মীদেরই। দলের রাজ্য সভাপতির উপস্থিতিতেই কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক ঘোষণা করেন, “রাজ্যে বিজেপি জিতলেই একমাসে ফালাকাটাকে পুরসভা ঘোষণা করা হবে।’’ নিশীথ বলেন, “তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে আবেগ নিয়ে খেলেছে। ফালাকাটাকে পুরসভা করা হবে বলা হলেও তা করা হয়নি।’’ যা নিয়ে বির্তক শুরু হয়েছে দলের বাইরে এবং ভিতরেও। পুরসভা ফালাকাটার দীর্ঘদিনের দাবি। রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে আগামী বছরের বিধানসভা ভোট জিততে হবে। তার আগে এ বছর ফালাকাটায় বিধানসভার উপনির্বাচন হবে মাত্র। সেখানে এমন প্রতিশ্রুতি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দলের নেতাদেরই একাংশের। এ নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি মৃদুলের কটাক্ষ, “গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল— এই প্রবাদের সেরা উদাহরণ হল বিজেপির প্রতিশ্রুতি। এনআরসি-সিএএ নিয়ে মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন ওদের বলার কিছুই নেই।” দিলীপের মুখে অবশ্য পুরসভা বা উপনির্বাচন নিয়ে কিছু শোনা যায়নি।

এ দিন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লাও ছিলেন মিছিলে। ফালাকাটা স্টেশন থেকে শহর প্রধান রাস্তা দিয়ে থানা হয়ে ফালাকাটা চৌপথিতে শেষ হয় মিছিল।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন