অসমের মতো নয়, অন্য ভাবে এনআরসি এ রাজ্যে লাগু হবে বলে পুজোর মরসুমে প্রচার শুরু করল বিজেপি। তবে তাঁদের কথায়, বাংলাদেশি হিন্দু শরণার্থীদের কোনও ভয় নেই। পুজোতে শিলিগুড়িতে লিফলেট বিলি শুরু করেছিল শিলিগুড়ির বিজেপি নেতারা। কিভাবে এনআরসি হবে তার যুক্তিও রয়েছে লিফলেটে। পুজো শুরুর ষষ্ঠীর দিন সন্ধ্যায় শহরে হিলকার্ট রোডের পুজোর ক্যাম্প থেকে ‘শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি চাই’-নাম দিয়ে দলের সদস্যরা লিফলেটটি বিলি শুরু করেছিলেন। কিছু ক্ষণের মধ্যে গোলমালের আশঙ্কা কথা বলে পুলিশ তা বিলি বন্ধ করে দেয়। পরে অবশ্য টুকটাক লিফলেট বিলি হয়েছে। বিজেপি’র অভিযোগ, ‘‘মানুষকে ভুল বোঝানো চালু রাখতেই তৃণমূল প্রচার বন্ধ করিয়েছে।’’ 

তৃণমূল নেতাদের পাল্টা দাবি, এনআরসি নিয়ে বিজেপির মুখে আর কথা মানায় না। 

তৃণমূল নেতারা বলছেন, অসমে যা হয়েছে, তা গোটা দেশের মানুষ দেখেছেন। গোর্খা থেকে রাজবংশী, সংখ্যালঘু সকলে এনআরসি-র ঠেলায় বাদ পড়েছেন। আর তাতে পশ্চিমবঙ্গ তো বটেই, বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব পডছে। জলপাইগুড়িতে মানুষ আতঙ্কে মারা গিয়েছেন। ভিটেমাটি ছাড়ার ভয়ে মানুষ আতঙ্কে পড়েছেন। তাই বিজেপি বাধ্য হয়ে এখন অসমের মতো নয়, এ সব মিথ্যা কথা বলে প্রচার শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে পুজোর আগে রাজ্যের দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং গৌতম দেব উত্তরবঙ্গে এনআরসি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। মিছিল, মিটিংও শুরু হয়েছে। দলের উত্তরবঙ্গের কোর কমিটির চেয়ারম্যান তথা মন্ত্রী গৌতম দেব বলে দিয়েছেন, ‘‘আমরা রাজ্য এনআরএসি চালু করতে দেব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার ভাবে তা জানিয়ে দিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের বিজেপির ভাঁওতাবাজির বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন চলবে।’’

গেরুয়া শিবিরের সূত্রের খবর, বিজেপি প্রচার করছে অসমের মতো এনআরসি প্রক্রিয়া হবে না। নাগরিকত্ব আইন ধরে এই রাজ্যে এনআরসি হবে। 

কিন্তু এর আগে বিজেপির নেতারা জানিয়েছিলেন, এনআরসি নিয়ে কোনও কথা না বলতে। বরং নাগরিকত্ব বিল নিয়ে প্রচার করতে। কিন্তু তা না করে এখন আবার এনআরসির কথা বলায় এবং পুজোর মরসুমেই তা তোলায় গেরুয়া শিবিরেই বিষয়টি নিয়ে দবিধা তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, এনআরসি-র নামে সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে বিরোধীদের মতাবাদের লোকজনকে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলতে চায় বিজেপি। আর এখন নানা মিথ্যা প্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। 

যদিও বিজেপি’র শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রথম থেকেই তৃণমূল-সহ নানা বিরোধী দল এনআরসি নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তার মোকাবিলায় আমরাও পাল্টা প্রচার করছি। লিফলেটটিতে এনআরএসি নিয়ে সঠিক তথ্য মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছিল।’’ 

তাঁর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল পুলিশকে দিয়ে আতঙ্ক, গোলমালের মত অহেতুক কিছু আশঙ্কার কথা বলা তা বন্ধ করেছে। আমাদের প্রচার চলবে।’’