তিনটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। তার মধ্যে একশো সতেরো কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের কোনও বেড়া নেই। রাজধানী এক্সপ্রেস সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন যায় এই এলাকা দিয়ে। ট্রেনে বা বাসে উত্তর পূর্বাঞ্চলে যেতে হলে উত্তরবঙ্গের উপর দিয়েই যেতে হবে। সেই রেল ও সড়ক পথে রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ সেতু। স্বাধীনতা দিবসের আগে এ সব নিয়ে প্রতি বছরই আশঙ্কায় থাকে প্রশাসন, এ বছর তার সঙ্গে জুড়েছে কাশ্মীর প্রতিক্রিয়ার আতঙ্ক। স্বাধীনতা দিবসের আগে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এই তিন জেলার নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক প্রশাসন। নিরাপত্তার মহড়া থেকে শুরু করে নাকা তল্লাশি দেখা যাচ্ছে জেলাগুলিতে।
 
সুরক্ষা আধিকারিকরা সে কারণেই কড়া নজর রাখছেন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর পাট খেতের উপরেও। পাট বেশ লম্বা হয়। এখন তা খেতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই ঘন-লম্বা পাট খেতের মধ্যে দিয়ে কেউ লুকিয়ে চলাফেরা করলে বাইরে থেকে দেখা মুশকিল। ধান খেতেও কেউ নিচু হয়ে চলাফেরা করলে দেখতে পাওয়া শক্ত। সুরক্ষা আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, দুষ্কৃতীরা এই সুযোগ নিতে পারে আশঙ্কা করে তাই ধান, পাট খেতে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে যেখানে পাট খেত রয়েছে,  সেখানে অনেক সময় পাট বেশি লম্বা হয়ে গেলে বিএসএফ তা কেটে ফেলার জন্যও আগে বলেছে।
 
কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করার পরপরই সব জেলায় সর্তকতা জারি করেছিল প্রশাসন। বিশেষত উত্তরবঙ্গের সীমান্ত ঘেঁষা জেলাগুলিতে কড়া সর্তকতা জারি হয়েছিল। বিএসএফ জওয়ানদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে জলপাইগুড়ির দক্ষিণ বেরুবাড়ি এবং নগর বেরিবাড়িতে। দুই জায়গাতেই বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। অথচ সীমান্তের ওপারে ধান গাছ মাথা তুলেছে। এ পারে কিছু জায়গার পাটখেত রয়েছে। রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে কারও চলে আসা কঠিন নয় বলে দাবি। সে কারণেই রাতের বেলায় জলপাইগুড়ির দুই গ্রামে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। সাদা পোশাকে বিএসএফের জওয়ানরা রাতে গ্রামে থাকছেন। সন্দেহজনক কিছু অথবা অপরিচিত কাউকে দেখলে গ্রেফতারের নির্দেশ আছে বলে সূত্রের খবর। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে।
 
কোচবিহারের গীতালদহে সীমান্ত দিয়ে বইছে নদী। এ জেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই। কোচবিহারের রাজবাড়ি, মদনমোহন বাড়ির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন নাশকতাপ্রবণ বলে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি। এগুলির নিরাপত্তা সামলে জেলা পুলিশকে এ বছর স্বাধীনতা দিবসের আগে বিশেষ নজর দিতে হচ্ছে সীমান্ত এলাকাতে। রাজধানী সহ অসমগামী এবং দিল্লিগামী প্রায় সব ট্রেনেরই স্টপেজ রয়েছে কোচবিহারে। রেলপুলিশ, জিআরপি ছাড়াও এ বছর প্রশাসনকেও স্টেশন নিয়ে সর্তক করা হয়েছে। মঙ্গলবারই নিউ কোচবিহার স্টেশে নিরাপত্তার মহড়া হয়েছে।
 
মাথাভাঙা, শীতলখুচি, ঘোকসাডাঙা এলাকায় নাকা তল্লাশি চলছে। মালবাজার থানার এলেনবাড়ি পুলিশ ক্যাম্পে নাকা তল্লাশি চলছে। জলঢাকা জল বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্রীকাথ জগন্নাথরাও ইলওয়াড বলেন, “এ বছর নিরাপত্তা যথেষ্ট বাড়ানো হয়েছে। নতুন নানা পদ্ধতিতে নজরদারি চলছে।”