দুর্ঘটনা রুখতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্য পরিবহণ দফতর গাড়ি চালানোর সময়ে চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরবর্তীতে এ নিয়ে ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এমনকী উত্তর দিনাজপুর জেলার দশটি থানা এলাকার জাতীয় ও রাজ্যসড়কে অভিযানও শুরু করে ট্র্যাফিক পুলিশ। কিন্তু কিছুদিন পরেই সেই অভিযান বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। আর সেই সুযোগেই গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকার জাতীয় ও রাজ্যসড়কে বিভিন্ন রুটের সরকারি ও বেসরকারি বাস চালানোর সময়ে চালকদের একাংশ মোবাইলে কথা বলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার সকালে চাকুলিয়া থানার কানকি এলাকার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বাসস্টপ থেকে রায়গঞ্জ যাওয়ার জন্য ইসলামপুর থেকে রায়গঞ্জগামী একটি বেসরকারি বাসে উঠেছিলেন প্রাথমিক স্কুলশিক্ষক মহম্মদ সানাউল্লা। অভিযোগ, বাসটি ডালখোলা এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যানজট কাটিয়ে কিছুদূর পৌঁছতেই চালকের পকেটে রাখা মোবাইল বেজে ওঠে এবং তিনি মোবাইল বার করে কথা বলতে শুরু করেন। বাসটি তখন ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে ছুটছে। আর এ দিকে, ডানহাতে মোবাইল ধরে, শুধু বাঁ হাতে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে বাসটি চালাচ্ছেন চালক, এমনটাই জানালেন সানাউল্লা। বললেন, ‘‘প্রায় ১০ মিনিট ধরে চালক বাঁ হাতে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে ও ডান হাতে কানে মোবাইল ধরে কথা বললেন। ফোন রাখার পরে আমি চালককে দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইলে কথা না বলাতে অনুরোধ করি। চালক অবস্য সে সবের তোয়াক্কা করেননি।’’

যাত্রীদের অভিযোগ, শুধু ওই বাসের চালকই নন, দেখা গিয়েছে, ট্র্যাফিক পুলিশের নজরদারির অভাবে গত মার্চ মাস থেকে জেলার রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ, কালিয়াগঞ্জ, ইটাহার, করণদিঘি, ডালখোলা, চাকুলিয়া, গোয়ালপোখর, ইসলামপুর ও চোপড়া থানার বিভিন্ন এলাকার ৩৪ ও ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রাজ্যসড়কে বিভিন্ন রুটের সরকারি ও বেসরকারি বাসের চালকেরা গাড়ি চালানোর সময়ে মোবাইলে কথা বলছেন। এ নিয়ে আতঙ্কে যাত্রীরা। মাস চারেক আগে মুর্শিদাবাদে সেতুর রেলিং ভেঙে একটি সরকারি বাস জলাশয়ে পড়ে গেলে বহু যাত্রীর মৃত্যু হয়। মোবাইলে কথা বলার সময়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে। ওই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দুর্ঘটনা রুখতে গাড়ি চালানোর সময়ে সরকারি ভাবে চালকদের মোবাইলে কথা বলা নিষিদ্ধ করা হয়। জেলাজুড়ে অভিযানে নামে ট্র্যাফিক পুলিশ। কিন্তু সে অভিযানও বন্ধ বলে অভিযোগ এবং কাজের কাজও হয়নি।

উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের রায়গঞ্জের ডিভিশনাল ম্যানেজার সুবীর সাহা ও জেলা বাস ও মিনিবাস ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্লাবণ প্রামাণিকের দাবি, দুর্ঘটনা রুখতে বাস চালানোর সময়ে চালকদের মোবাইলে কথা না বলার নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও যাত্রী নির্দিষ্ট করে অভিযোগ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার অনুপ জয়সওয়ালের দাবি, জেলার সমস্ত থানা এলাকার জাতীয় ও রাজ্যসড়কে গাড়ি চালানোর সময়ে চালকদের মোবাইলে কথা বলা রুখতে ট্র্যাফিক পুলিশকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।