ইংরেজবাজার শহরের রথবাড়ি মোড়। এই মোড়েই ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ঠেলা গাড়িতে পান মশলা, গুটখার পসরা সাজিয়ে রয়েছেন বিক্রেতা। চলছে দেদার বিক্রিও। গুটখা, পান মশলা বিক্রি তো এখন নিষিদ্ধ? ওই বিক্রেতা বললেন, “প্লাস্টিক ব্যবহারও নিষিদ্ধ। তার পরেও তো প্লাস্টিক ব্যবহার হচ্ছে। ঠিক তেমনই গুটখা, পান মশলাও বিক্রি হবে।” আরও এক বিক্রেতা বলেন, “গুটখা, পান মশলা বিক্রি বন্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু তৈরি বন্ধ হচ্ছে না। তৈরি করা বন্ধ হলে নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে বিক্রিও।”

এ দিন থেকেই গুটখা, পান মশলার বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু শুধু রথবাড়িই নয়, বৃহস্পতিবার মালদহ শহর জুড়ে প্রকাশ্যেই বিক্রি হতে দেখা গেল গুটখা, পান মশলা। তবে সরকারি নির্দেশিকা জারি হলেও তার কোনও প্রচার নেই। নেই অভিযানও। ফলে সর্বত্রই বিকোচ্ছে সে সব। মালদহ মেডিক্যাল, মালদহ কলেজ, প্রশাসনিক ভবন সর্বত্র প্রকাশ্যেই পান মশলা, গুটখা বিক্রি চলছে। এর বন্ধ হওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছে ব্যবসায়ী মহল।

মালদহ মেডিক্যাল চত্বরের এক ব্যবসায়ী নরেন সিংহ বলেন, “চায়ের দোকানের সঙ্গে পান মশলা, গুটখা বিক্রি করে কোনও রকমে সংসার চলে। পুজোর মরসুমে দোকানে প্রায় ২৫ হাজার টাকার এ হেন তামাকজাত দ্রব্য মজুত করেছি। এখন মানুষের মুখে মুখে শুনতে পাচ্ছি গুটখা, পান মশলা বিক্রি করা যাবে না। কিন্তু প্রশাসনের তরফে কিছুই জানানো হচ্ছে না।” আরও এক ব্যবসায়ী সুমন সাহারও দাবি, প্রশাসনের উচিত মানুষকে সচেতন করা।

মালদহের ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, “আমাদের তরফে ব্যবসায়ীদের গুটখা, পান মশলা বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে শুধু আমাদের বললেই হবে না। প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার চালাতে হবে।”

এ দিকে, গুটখা, পান মশলা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় খুশি শহরবাসীর একাংশ। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী অপর্ণা বিশ্বাস বলেন, “গুটখা, পান মশলা বিক্রিতে সরকারের নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত খুবই ভাল উদ্যোগ। কারণ এ সমস্ত তামাকজাত নেশার সামগ্রী স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।” খুবই শীঘ্রই পানমশলা, গুটখার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক অশোককুমার মোদক। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে যৌথ ভাবে অভিযান চালানো হবে।”