শুধু ‘বয়স্ক’ শব্দটিই যে যথেষ্ট তুলকালাম করতে পারে, সোমবার তার প্রমাণ মিলল শিলিগুড়ি পুরসভায়। এ দিন বাজেট নিয়ে বৈঠক ছিল। সেখানে আলোচনার সময় মেয়রকে ‘বয়স্ক মানুষ’ বলেন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রঞ্জন শীলশর্মা। তা শুনেই হাসির রোল পড়ে যায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে। তা দেখেই তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন বাম কাউন্সিলররা। পাল্টা দেওয়ার জন্য প্রত্যেক বাম কাউন্সিলর তাঁদের বক্তব্য শুরুর সময় রঞ্জনের কথার নিন্দা করতে থাকেন। তাতেই এ বার ক্ষেপে যান রঞ্জন। তরজা এমন জায়গায় গড়ায় যে দলের বাকি কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা ছেড়ে বেরিয়ে যান রঞ্জন শীলশর্মা।

কী বলেছিলেন রঞ্জন?

এ দিন সভায় তিনি বলেন, ‘‘মেয়রের সঙ্গে কাজ করতে পেরে অমি গর্বিত। উনি একজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বয়স্ক মানুষ। রাজ্য সরকার শিলিগুড়ির যে উন্নয়ন করছে তাঁর চোখে তা পড়ছে না। তাঁর মতো বয়স্ক মানুষের এটা হওয়াই স্বাভাবিক। বয়স্ক হওয়ার জন্যই যেখানে ৪ বছরে ১৪৪ কোটি টাকা খরচ হয় না, সেখানে নয় মাসে তিনি ৪২৯ কোটি টাকার বাজেট করেছেন।’’ 

রঞ্জনের দাবি, একজন বয়স্ক মানুষের দ্বারাই এই ধরনের ভুল বাজেট পেশ করা সম্ভব। এটা বলার পরে তৃণমূল কাউন্সিলররা হাসিঠাট্টা শুরু করতেই তার তীব্র বিরোধিতা করেন মেয়র পারিষদ (পূর্ত) নুরুল ইসলাম। বাম কাউন্সিলররা দাবি করেন, মেয়রকে বয়স্ক বলে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে। তৃণমূল সৌজন্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। মেয়র পারিষদ পরিমল মিত্র বলেন, ‘‘বিরোধীদের সৌজন্য বোধটুকু নেই।’’

যদিও সেই অভিযোগ মানতে চাননি রঞ্জন। তাঁর পাল্টা দাবি, এটা সে রকম কোনও ব্যাপার নয়। মেয়রকে বয়স্ক বলে তিনি সম্মান জানিয়েছেন। এই নিয়ে বাদানুবাদ চরম আকারে পৌঁছতেই সঙ্গী কাউন্সিলরদের নিয়ে সভা থেকে ওয়াকআউট করেন রঞ্জন। 

কাদের বয়স্ক বলা যায়? উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক কল্যাণ খান জানান, আগে ষাট হলেই বয়স্ক বলা হত। এখন কিন্তু তা নয়। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ সম্প্রতি বলছে ৭৫ পার হলে তবেই পরিপক্ব বয়স্ক বলা চলে। ৬৫ থেকে ৭৪ বছরকে তারা বলতে চাইছে সদ্য বয়স্ক। তাঁদের সরাসরি বার্ধক্যের তালিকায় ঠেলে দেওয়া ঠিক নয় বলেই হু’র মত।’’ বার্ধক্য জনিত অসুখ, জীবনযাত্রা ওই বয়সের পরেই এখন সক্রিয় হচ্ছে বলে হু’র পর্যবেক্ষণ, এমনটাই জানান তিনি।

যাঁকে বয়স্ক বলা নিয়ে এত তরজা, সেই মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এ নিয়ে আর কী বলব। ওদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। ওরা ভাল থাকুক।’’