পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন ঘিরে ফের আক্রান্ত নিরীহ শিশু। এবং সেই মালদহের মানিকচক এলাকাতেই। বৃহস্পতিবার বিকেলে মানিকচক থানার ঝাড়খণ্ড সীমান্ত লাগোয়া রামনগর গ্রামে গুলিবিদ্ধ হল তিন বছরের শিশু। তিনদিন আগেই গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন নিয়ে রামনগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গোপালপুরে গোলমালের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছিল। বোমার আঘাতে আহত হয়েছিল নিরীহ এক শিশু।   

এ দিনের গুলিবিদ্ধ শিশু মৃণাল মণ্ডল স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য পুতুল মণ্ডলের ছোটছেলে। এ দিন বিকেলে পুতুলের বাড়িতে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় বারান্দায় খেলা করছিল বাচ্চাটি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুতুলের স্বামী পরিমল মানিকচকের একটি পেট্রোল পাম্পে কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘দু’মাস আগেই স্ত্রীর দলবদলের পর থেকেই বিজেপির কর্মীরা আমাদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল। ওরাই গুলি চালিয়েছে।’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি দুলাল সরকারের অভিযোগ, বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে লোক নিয়ে এসে সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে। মালদহের পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’’

 ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০টি, তৃণমূল ৬টি, কংগ্রেস এবং নির্দল ১টি করে আসন পায়। পরে কংগ্রেস, নির্দলের একজন করে সদস্য ছাড়াও বিজেপির এক জয়ী সদস্য পুতুল তৃণমূলে যোগ দেন। তৃণমূল ও বিজেপির সদস্যের সংখ্যা হয়ে যায় ৯টি করে। গত মঙ্গলবার মানিকচক পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ছিল। সেখানে তৃণমূল ও বিজেপির সংখ্যা সমান হয়ে যায়। টসে জিতে বিজেপি পঞ্চায়েতের দখল নেয়।

বিজেপির জেলা সভাপতি সঞ্জিত মিশ্রের দাবি, ‘‘ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূলের সঙ্গে দলবদলের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা প্রলোভন ছিল। সেই টাকা নিয়েই তৃণমূলের মধ্যেই গোলমালে গুলি চলেছে। তাতে জখম হয় নিরীহ শিশুটি।’’ এবার মানিকচক পঞ্চায়েত ছাড়াও একক ভাবে প্রতিবেশী মথুরাপুর এবং নাজিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে বিজেপি।