মাস দেড়েক আগেই তৃণমূলের বিধায়ক হিতেন বর্মনের নেতৃত্বে অঞ্চল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার ওই একই অঞ্চলে হিতেনবাবুর বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়ে দলে আরেক গোষ্ঠীর অঞ্চল সম্মেলনের আয়োজন ঘিরে বিতর্ক চরমে উঠেছে। ঘটনাটি শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই এলাকা মাথাভাঙা-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির মধ্যে পড়ে। এ দিনের অঞ্চল সম্মেলনের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন ওই সমিতির সভাপতি আবু তালেব আজাদ, জেলা পরিষদের সদস্য নজরুল হক এবং শ্রমিক তৃণমূলের নেতা আলিজার রহমান। তাঁদের দাবি, বিধায়ক পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের না ডেকেই অঞ্চল সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। শুধু তাই নয়, ওই সম্মেলনে তৃণমূলের পুরেনো কর্মীদের অনেককেও ডাকা হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

বিধায়ক হিতেনবাবু অবশ্য সরাসরি দাবি করেছেন, এ দিনের অঞ্চল সম্মেলনের আয়োজকরা দলবিরোধী কাজ করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি রাজ্য নেতৃত্বের কাছে রিপোর্ট পাঠাবেন। তিনি বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও ওই কয়েকজন দলবিরোধী কাজ করেছে। মাথাভাঙায় তাঁরা তৃণমূলের পতাকা নিয়ে ঘুরেছে। আর শীতলখুচি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল বিরোধী কাজ করেছে। রাজ্য নেতৃত্ব সব জানেন। এই ঘটনাও জানানো হবে।” মাথাভাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বনমন্ত্রী হিতেন বর্মন। তিনি কোচবিহার জেলা তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি সঠিক জানি না। ওই এলাকা শীতলখুচি বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। আমার বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে না।”

এ দিনের সম্মেলনের আয়োজকদের অবশ্য হিতেনবাবুর বক্তব্যকে মিথ্যে দাবি করেন। তাঁদের পাল্টা দাবি, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সবাই তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন। আবু তালেব আজাদ বলেন, “বিধায়ক পুরনো তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের না ডেকেই সম্মেলন করেছেন। এলাকায় কাউকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাই আমরা সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আর এই সম্মেলনে সবাইকে ডাকা হয়েছে।” দলের মাথাভাঙা-১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মজিরুল হক বলেন, “দলের অনুমোদন না নিয়ে নিজের ইচ্ছে মতো সম্মেলনের আয়োজন করেছেন কয়েকজন। বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানানো হবে।”