রাত পোহালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছে যাবেন কোচবিহারে। কারও দম ফেলার ফুরসৎ নেই। মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ একবার মাঠ পরিদর্শন করে অডিটোরিয়াম পরিদর্শন করছেন। আবার সাংসদ পার্থপ্রতিম রায় থেকে বিধায়ক মিহির গোস্বামী মাঠ পরিদর্শন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে চলছে প্রস্তুতি সভা। প্রশাসন তো প্রস্তুতি সভা করছেনই। তার বাইরে কোথাও তৃণমূল কোথাও যুব তৃণমূল মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সভা করছেন। 

দলীয় সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকে দফায় দফায় গোষ্ঠীকোন্দলে বার বার নাম উঠে এসেছে কোচবিহারের। কয়েক মাস আগে চ্যাংরাবান্ধার সভায় দিনহাটার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই অবস্থায়, ওই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, দলের মধ্যে কাকেই বা বেশি গুরুত্ব দেবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সবাই নিজের নিজের মতো করে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “কার শক্তি বেশি তা নিয়ে দলের মধ্যেই প্রতিযোগিতা চলছে। সে জন্যেই এমন আলাদা আলাডা প্রস্তুতি সভা চলছে।”

শুক্রবার রাতে কোচবিহার শহরে যুব তৃণমূলের তরফে একটি প্রস্তুতি সভা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ পার্থবাবু থেকে বিধায়ক মিহিরবাবু। শনিবার তৃণমূলের উদ্যোগে ডাউয়াগুড়িতে একটি প্রস্তুতি সভা হয়। ওই সভায় রবীন্দ্রনাথবাবুর অনুগামী বলে পরিচিত কোচবিহার ১ ব্লকের তৃণমূল সভাপতি খোকন মিয়াঁ, ওই ব্লকের সহ সভাপতি আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষই মুখ্যমন্ত্রীর সভায় দলীয় কর্মীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রবীন্দ্রনাথবাবু অবশ্য বলেন, “প্রশাসনিক সভায় যোগ দিতে মুখ্যমন্ত্রী আসছেন। সরকারি সভায় তিনি যোগ দেবেন। তিনি জেলা তথা রাজ্য জুড়ে যা কাজ করছেন, তাতে এমনিই হাজার হাজার মানুষ যোগ দেবেন।” খোকন মিয়াঁ অবশ্য বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সভায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যাওয়া হবে সে জন্যেই প্রস্তুতি সভা করা হচ্ছে।”

জেলার যুব সভাপতি পার্থবাবু জানান, মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যুব তৃণমূলের পক্ষ থেকে শহরের নানা জায়গায় ফ্ল্যাগ, ফেস্টুন ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। কাল, সোমবার কোচবিহারে পৌঁছবেন মুখ্যমন্ত্রী। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে কোচবিহারে পৌঁছবেন তিনি। ওইদিন বিকালে জেলাশাসকের অফিস সংলগ্ন নবনির্মিত অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করবেন তিনি। সেখানে একটি প্রশাসনিক সভাও করবেন। মঙ্গলবার কোচবিহার রাসমেলার মাঠে সরকারি ওই সভা করবেন তিনি। ওই সভামঞ্চের পাশেই এমজেএন স্টেডিয়ামে হেলিপ্যাড তৈরি হচ্ছে।