আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে কোচবিহার সফরে আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই তা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

কোচবিহার লোকসভা আসন এ বারে হাতছাড়া হয়েছে। তার পরে কোচবিহারে শাসক দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও বিক্ষোভের মুখে পড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ছেড়ে মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর সফরে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা।  সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সফরেই কোচবিহারে যাবেন। এখনও পর্যন্ত অবশ্য ওই বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। 

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের কোচবিহার জেলার প্রাক্তন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সমস্ত জেলাতেই সভা করছেন। তিনি উত্তরবঙ্গ সফরও করবেন। সেই সময়ই তিনি কোচবিহারে আসবেন বলে আশা করছি। নির্দিষ্ট করে ওই বিষয়ে সেই সময়ই জানানো যাবে।” প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ক্যাবিনেট বৈঠক রয়েছে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তার পরেই তা নির্দিষ্ট জেলায় জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “মৌখিক ভাবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছেন নভেম্বরের প্রথমদিকে রাসমেলার ঠিক আগে বা ওইসময় কোচবিহার সফর করবেন মুখ্যমন্ত্রী।”

কোচবিহার দীর্ঘসময় ধরে তৃণমূলের গড় বলেই পরিচিত। বর্তমানে কোচবিহারে তৃণমূলের  আটজন বিধায়ক। পঞ্চায়েতের অধিকাংশ আসনই তৃণমূলের দখলে। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে হারের পরে কোচবিহারে তৃণমূল কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে দল সূত্রে খবর। প্রশাসনিক কাজকর্মও ধাক্কা খেয়েছে। এই অবস্থার থেকে জেলাকে বের করার জন্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সফর বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, “দিদি কোচবিহারের পাশে ছিলেন বরাবর। তার জন্যেই বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, বড় বড় দুটি সেতু পেয়েছে কোচবিহারে। দিদির এখনও আস্থা আছে। তাই নিজেই একবার দেখার জন্যেই সফর করবেন।’ বিজেপি’র কোচবিহার জেলার সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, “তৃণমূলের উপরে আর মানুষের আস্থা নেই। তাই কোনও সফরেই কাজ হবে না।”