• নিজস্ব সংবাদদাতা 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে প্রচার দেবুর

Awareness
ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে প্রচার। নিজস্ব চিত্র

‘‘ঢোল, ঢোল, ঢোল। দিল্লি, মুম্বই, হরিয়ানা থেকে যাঁরা ফিরেছেন তাঁরা বাড়িতে চুপচাপ বসে না থেকে এক বার হাসপাতালে যান। অসুস্থ হলে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান। নিজেকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখবেন না। এতে নিজের পাশাপাশি পরিবারের প্রিয় লোকজনের বিপদ হতে পারে’’—হাতে ঢোল নেই। সর্ষের তেলের টিন। তা নিয়েই ঢ্যাঁড়া পেটাচ্ছেন দেবু রাজবংশী। থাকেন মালদহের চাঁচলের চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুরে।

ঘটনাক্রমে ওই সময়ই দিল্লি থেকে বলরামপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন ছয় শ্রমিক। দেবুর ঢ্যাঁড়া শুনে বাড়িতে না ঢুকে উল্টোপথ ধরে তাঁরা গেলেন মালতীপুর হাসপাতালে।

স্থানীয় সূ্রে জানা গিয়েছে, দু’দিন ধরে চন্দ্রপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে এ ভাবেই প্রচার চালাচ্ছেন দেবু। তার ফলও মিলছে। দেবুকে দিয়ে প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে এলাকার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। শুধু ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে প্রচার নয়। কোথাও ভিন্‌ রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের জন্য ঝোলানো হয়েছে ফেস্টুন। কোথাও উদ্যোগী হচ্ছেন প্রতিবেশীরাও।

চাঁচল মহকুমার কয়েক হাজার শ্রমিক ভিন্‌ রাজ্যে রয়েছেন। করোনা-আতঙ্কের জেরে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন তাঁদের অনেকেই। কিন্তু অভিযোগ, প্রতি দিন কোথা থেকে কত শ্রমিক ঘরে ফিরছেন তার হিসেব পঞ্চায়েত-প্রশাসনের কাছে নেই। এই পরিস্থিতিতে ভিন্‌ রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সচেতন করতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি বাসিন্দারাও সচেতন হয়ে পথে নেমে প্রচার শুরু করায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে প্রশাসন।

চাঁচলের মহকুমাশাসক সব্যসাচী রায় বলেন, ‘‘ভিন্‌ রাজ্য থেকে কেউ অসুস্থ হয়ে ফিরলে তিনি যেন হাসপাতালে যান, তা প্রশাসনের তরফেও জানানো হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই বাড়ি ফিরে অসুস্থতা নিয়েও চুপচাপ বসে থাকছেন। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাঁদের সহজেই শনাক্তকরণের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।’’

প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন ধরে প্রতি দিন শতাধিক শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের অনেকেরই জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ নেই। আবার কেউ কেউ জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত। তার মধ্যে বেশিরভাগেরই আবহাওয়া পরিবর্তনকালীন সমস্যায় এমন হয়েছে।

কিন্তু আশ্বস্ত হতে পারছেন না বাসিন্দারা। কোন এলাকায় শ্রমিকেরা ফিরছেন তা নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রয়েছে একাধিক এলাকায়। যার জেরে এ দিনও চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য লম্বা লাইন দেখা যায় ভিন্‌ রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের। ট্রেন থেকে নেমেই হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে হাজির হন জনাপঞ্চাশেক শ্রমিক। তবে অসুস্থদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হলেও বাকিদের বাড়ি ফিরে ‘হোম কোয়রন্টিনে’ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন