• সৌমিত্র কুণ্ডু
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কুরিয়র বন্ধ, চাপ করোনা নির্ণয়ে

Courier
প্রতীকী ছবি

আপাতত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে সোয়াব পরীক্ষা শুরু হয়নি। তার জন্য নাইসেডের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে। এখন সন্দেহজনক করোনারোগীর লালারসের নমুনা কলকাতার একটি কুরিয়ার সংস্থার মাধ্যমে নাইসেডে পাঠায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার ওই সংস্থা নমুনা নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে মঙ্গলবার থেকে ‘কুরিয়র সার্ভিস’ পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে পরিষেবা দেওয়ার সংস্থাটি। এই পরিস্থিতিতে নাইসেডে নমুনা পাঠানো নিয়ে চিন্তায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ। নমুনা পাঠানো না গেলে মেডিক্যালের আইডি-তে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা কী ভাবে হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভাইরাল রিসার্চ অ্যান্ড ডায়গোনেস্টিক ল্যাবরেটরির (ভিআরডিএল) পরিকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও সেখানে করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষা এখনও চালু হয়নি।  

 হাসপাতালের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, কুরিয়র সার্ভিস যাঁরা দেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছেন তাদের পক্ষে লকডাউন পরিস্থিতিতে পরিষেবা চালানো সম্ভব হবে না। মেডিক্যালের সুপার বলেছেন, ‘‘পরিষেবা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিমান পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা নমুনা নিয়ে যেতে পারবে না।’’ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য সোমবার বিষয়টি জানতে পেরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘বিকল্প কী ব্যবস্থা করা যায় তা আমাদের দ্রুত দেখতে হবে। তা না হলে সোয়াব পাঠানো সম্ভব হবে না।’’ 

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হাসপাতালে ভিআরডিএল-এ করোনা নির্ণয়ের পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চারজন টেকনিশিয়ান নাইসেড থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। নাইসেড থেকে কিছু সোয়াবের নমুনা ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভিআরডিএল-এ। সেগুলো পরীক্ষা করে তাদের জানাতে হবে। সেই রিপোর্ট দেখে নমুনা ঠিকমতো পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখবে নাইসেড। তারপরেই তারা পরীক্ষার ‘কিট’ পাঠাবেন। হাসপাতালের সুপার কৌশিক সমাজদার বলেন, ‘‘আমরা আশা করছি সাত, দশ দিনের মধ্যে এই ল্যাবরেটরি চালু করা সম্ভব হবে।’’

সোমবার সকালে আইসোলেশনে ৫ জন ভর্তি ছিলেন। তাঁদের এক জনের ছুটি হয়েছে গিয়েছিল রবিবার রাতেই। এ দিন পরিবারের লোক তাঁকে নিয়ে যাওয়ার কথা। বাকি চার জনের মধ্যে এক জন ব্রিটেনের বাসিন্দা। সুপার জানান, যা তথ্য রয়েছে তাতে তাঁর কোয়রান্টিনের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে একটি হোটেলে ছিলেন বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ নিয়ে এসেছে। একজনের নমুনা আগেই নাইসেডে পাঠানো হয়েছে। এ দিন তিন জনের পাঠানোর কথা ছিল।

সোমবার মেডিক্যালের করোনা স্ক্রিনিং সেন্টারে অন্তত ১৫০ জন এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০০ জনকে হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন