• সৌমিত্র কুণ্ডু 
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

পুজোয় ভিড়, বাড়ছে সংক্রমণ

COVID-19
প্রতীকী চিত্র।

আশঙ্কা ছিল,  পুজোর শেষ ক’দিন যে ভিড় বেড়েছিল, তাতে করোনা সংক্রমণ বাড়বে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ভাইরোলজি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির দেওয়া রিপোর্ট জানাচ্ছে, আশঙ্কা সত্যি হতে চলেছে। ভিআরডিএল-এর সংক্রমণের হার সপ্তাহ খানেক আগে সাময়িক ভাবে কমলেও এ বার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণের হার ১৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে লালারসের নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। ওই সমস্ত নমুনা পরীক্ষা থেকেই সংক্রমণের হার মিলেছে। 

পুজোয় নবমী ও বিসর্জনের দিন ভিড়ের জেরেই সংক্রমণ বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তার পর লক্ষ্মীপুজোর বাজারেও ভিড় হয়েছে। তাই সংক্রমণ হার বৃদ্ধির এই পরিস্থিতি আরও কিছু দিন চলবে কি না, তা নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুজোর কেনাকাটার ভিড়ের জেরে পুজোর মুখে সংক্রমণের হার বেড়ে ১৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। পুজোর সময় থেকে গত ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সংক্রমণের হার কমে যায়। ওই সময় সংক্রমণের হার ছিল গড়ে ১০ শতাংশ। এর পর থেকেই তা বাড়তে শুরু করেছে। ৯ নভেম্বর পর্যন্ত তা ১৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। 

উত্তরবঙ্গে করোনা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক তথা ওএসডি সুশান্ত রায় বলেন, ‘‘সংক্রমণ বাড়বে, তা পরিস্থিতি দেখে আগেই আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। নবমী এবং বিসর্জনের দিন যে হারে জেলাগুলিতে ভিড় হয়েছে, তাতে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভবনা যথেষ্ট ছিল। সেটাই হয়েছে। সংক্রমণ ঘটতে ৭-১৪ দিন সময় লাগে। সেই মতোই এখন কিন্তু সংক্রমণ অনেকটাই বাড়তে শুরু করেছে।’’ 

বস্তুত, সংক্রমণের হার বাড়তে পারে, সেটা আঁচ করেই শিলিগুড়িতে সরকারি ব্যবস্থায় আরও একটি কোভিড হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে অন্য জায়গাগুলিতে কোভিড হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্রেই জানা গিয়েছে। কেন না শিলিগুড়ির মতো কোভিড হাসপাতালগুলিতে আইসিইউ শয্যা ফাঁকা থাকছে না।   

যে জেলাগুলি থেকে নমুনা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে যাচ্ছে, তার মধ্যে কালিম্পং জেলায় সংক্রমণের হার ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে। সে কারণে বাকিজেলাগুলির সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ১৯ শতাংশের অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দার্জিলিং জেলায় প্রতিদিনই শতাধিক সংক্রমিত হচ্ছে। তাতে চাপ বাড়ছে কোভিড হাসপাতালগুলির উপরে। বেশিরভাগ রোগীকে হোম আইসোলেশনে রেখেই চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাতে কিছুটা রক্ষা। যদিও উপসর্গযুক্ত রোগী বাড়ছে বলেই স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, করোনা সংক্রমণ নিয়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে। মেডিক্যালের কোভিড স্ক্রিনিং সেলের কিয়স্কে পরীক্ষা করাতে ভিড় হচ্ছে প্রতিদিনই। 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন