• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ট্রাকে ৭০ শ্রমিক ফিরলেন, আতঙ্ক

Truck
ফাইল চিত্র

করোনা-আতঙ্কের মধ্যেই ভিন্‌ রাজ্য থেকে ট্রাকে গাদাগাদি করে চেপে হেমতাবাদে ফিরলেন অনেক শ্রমিক।

রবিবার সকালে ওই ঘটনা ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে আশঙ্কা ছড়ায়। ‘লকডাউন’ চলাকালীন কী ভাবে পুলিশ-প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভিন্‌ রাজ্যে আটকে থাকা শ্রমিকেরা এ ভাবে হেমতাবাদে ফিরলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, এ দিন ৭০ জন শ্রমিক ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে হেমতাবাদে ফিরেছেন।

হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্ক বিশ্বাসের দাবি, এ দিন হেমতাবাদ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকেরা ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসা প্রায় ৭০ জন শ্রমিকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেছেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁদের কারও জ্বর, সর্দি-কাশি ও হাঁচির উপসর্গ মেলেনি। চিকিৎসকেরা সকলকে ১৪ দিন ‘হোম কোয়রান্টিন’-এ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধানের বক্তব্য, ‘‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ দিন ভিন্‌ রাজ্য থেকে গাদাগাদি করে ট্রাকে চেপে ওই শ্রমিকেরা হেমতাবাদে ফিরে ঠিক করেননি।’’ রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার সুমিত কুমার বলেন, ‘‘ওই শ্রমিকেরা ট্রাকে কোন রাস্তা দিয়ে জেলায় ঢুকে হেমতাবাদে পৌঁছলেন, তা দেখা হচ্ছে। পুলিশকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ওই শ্রমিকেরা বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন পাউরুটি ও বিস্কুট তৈরির বেকারি, হোটেল ও নির্মাণ সংস্থায় রাজমিস্ত্রি বা  অন্য কাজ করতেন। তাঁদের বাড়ি হেমতাবাদ ও লাগোয়া রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এ দিন সকালে ৭০ জন পুরুষ ও মহিলা শ্রমিক একটি ট্রাকে হেমতাবাদ সদর এলাকায় এসে পৌঁছন। খবর পেয়ে পুলিশকর্মীরা সেখানে গিয়ে ওই শ্রমিকদের ফের ট্রাকে উঠিয়ে হেমতাবাদ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়।

ওই শ্রমিকদের দাবি, লকডাউনের জেরে কয়েক দিন ধরে তাঁরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তাঁদের হাতে টাকা নেই। খাবারেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের পরিচিত শ্রমিকেরা শনিবার গভীর রাতে মালদহ-ঝাড়খণ্ড সীমানা থেকে একটি ট্রাক ভাড়া করে হেমতাবাদে রওনা হন। পুলিশের দাবি, শ্রমিকেরা গভীর রাতে ট্রাকে হেমতাবাদে রওনা হওয়ায় পুলিশের নজরে পড়েননি।

হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রফুল্ল বর্মণ বলেন, ‘‘ওই ঘটনার জেরে হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জের বহু বাসিন্দা করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। লকডাউন চলাকালীন কী ভাবে পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভিন্‌ রাজ্য থেকে ওই শ্রমিকেরা ট্রাকে চেপে হেমতাবাদে ফিরলেন, সেটা কেউ এলাকার কেউ বুঝতে পারছেন না।’’

অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন