ফের দার্জিলিং মেল নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে রেল। নিউ জলপাইগুড়ির (এনজেপি) পরিবর্তে এ বার শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন থেকে ছাড়তে পারে সুপারফাস্ট দার্জিলিং মেল। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মে থেকে ট্রেনটির প্রান্তিক স্টেশন বদলাতে চলেছে।

যাতায়াতের সময়সূচি আগের মতোই থাকবে বলে প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে। রেলের সূত্র জানাচ্ছে এনজেপি স্টেশের ভার লাঘব করতেই এমন প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। রেলবোর্ডের অনুমোদনের পরেই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের এক কর্তার কথায়, ‘‘এখনও পর্যন্ত বিষয়টি প্রস্তাব আকারেই রয়েছে। বলা যেতে পারে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। দার্জিলিং মেলের মতো ট্রেনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হলে অনেক কিছুই খতিয়ে দেখতে হয়। রেলবোর্ড সে সব খতিয়ে দেখছে।’’

রেলের প্রস্তাব অনুযায়ী, এনজেপির পরিবর্তে প্রতিদিন দার্জিলিং মেল ছাড়বে শিলিগুড়ি জংশন স্টেশন থেকে। জংশন থেকে ছেড়ে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন হয়ে দার্জিলিং মেল এনজেপি পৌঁছবে। সেখান থেকে রওনা দেবে কলকাতার উদ্দেশে। রেলের দাবি এই সিদ্ধান্তে এনজেপির ভাল লাঘব হবে অনেকটাই। ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণও হবে জংশনে। বড় বড় স্টেশনের ক্ষেত্রে এমনটাই করা হয়। নিউ দিল্লি-র চাপ কমাতে আনন্দবিহার স্টেশন থেকে সম্প্রতি একাধিক ট্রেন চালানো শুরু হয়েছে। দার্জিলিং মেলের মতো সুপারফাস্ট এবং অভিজাত ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো শিলিগুড়ি জংশনে রয়েছে। প্রয়োজন শুধু ট্র্যাকে কিছু সংস্কার এবং স্টেশনে যাতায়াতের পথে দখল উচ্ছেদ। আগামী মাস থেকে স্টেশন চত্বরে অবৈধ দখল উচ্ছেদের কাজ শুরু হতে চলেছে। রেলের থেকে আরপিএফকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্প্রতি এনজেপির পরিবর্তে দর্জিলিং মেল আলিপুরদুয়ার থেকে চালানোর প্রস্তাব নিয়ে টানাপড়েন তুঙ্গে ওঠে। আলিপুরদুয়ারে প্রস্তাব দ্রুত রূপায়ণের দাবিতে আন্দোলন হয়। প্রতিবাদ শুরু হয় শিলিগুড়িতে। পরে রেল জানিয়ে দেয়, আপাতত আলিপুরদুয়ার থেকে দার্জিলিং মেল চালানোর ভাবনা নেই।