তারঘেরা গভীর জঙ্গলের ভেতরে পূর্ত সড়ক লাগোয়া এলাকা থেকে উদ্ধার হল পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতির মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার সকালে ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি থেকে ক্রান্তিগামী সড়কে তারঘেরার জঙ্গলের পথে হাতিটির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাতিটির ডান দিকের দাঁত থাকায় সেটি বনকর্মীদের কাছে ‘ডাঁয়া গণেশ’ নামে পরিচিত ছিল। তারঘেরা রেঞ্জের রেঞ্জ আধিকারিক-সহ বনকর্মীরা হাতিটিকে চার পা উল্টে পড়ে থাকতে দেখেন।

প্রাথমিক ভাবে সড়কের ধার দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে হাতির শুঁড় ছুঁয়ে যাওয়াকেই সেটির মৃত্যুর কারণ বলে মনে করছেন বন ও পরিবেশকর্মীরা। তারঘেরা জঙ্গলের পথে চিড়াভিজা কালভার্ট লাগোয়া এলাকার কাছেই হাতির দেহ যেখানে পড়েছিল আর ঠিক সেই এলাকাতেই বিদ্যুতের তার স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই নিচু হয়ে গিয়েছে বলেই পরিবেশকর্মীরা ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা করেন। 

হাতির পায়ের ছাপ খতিয়ে দেখে পরিবেশপ্রেমীদের অনুমান, হাতিটি জঙ্গলের ভিতরে মেচ বনবস্তি থেকে বেরিয়ে সড়ক পেরিয়ে অন্যদিকের জঙ্গলে ঢোকার মুখে কোনওভাবে হাতিটির শুঁড়ের সঙ্গে বিদ্যুতের তার স্পর্শ হয়ে থাকতে পারে। গাছের ডাল ছুঁতে গিয়ে বিপত্তি হতে পারে বলেও দাবি তাঁদের।

ন্যাস পরিবেশপ্রেমী সংস্থার কর্মকর্তা নাফসার আলি এ দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিদ্যুৎ দফতরের উদাসীনতার জন্যেই হাতির প্রাণ গেল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। একই দাবি লাটাগুড়ির পরিবেশপ্রেমী গ্রিন লেবেল সংগঠনের সম্পাদক অনির্বাণ মজুমদারেরও। বন দফতরের পক্ষে সহকারী বনপাল নিমা নরবু শেরপা, রেঞ্জার শুভজিত মাইতিরা বিদ্যুতের তার ছুঁয়ে মৃত্যুর যাবতীয় লক্ষণ হাতির শরীরে এবং শুঁড়ে প্রকট বলে দাবি করেন। তবে বিদ্যুৎ পরিবহণ সংস্থার তরফে এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয় নি।

এ দিনের ঘটনার পরে দ্রুত জঙ্গলের পথে আর কোথাও বিদ্যুতের তার নিচুতে রয়েছে তা অবিলম্বে চিহ্নিত করে উঁচু করার দাবিও তোলেন পরিবেশপ্রেমীরা। হাতি শুঁড় তুললে অনায়াসে ১৬ থেকে ১৮ ফুট উচুর জিনিস তারা ছুঁতে পারে তাই সেই বিষয়টি বিদ্যুৎ পরিবহণসংস্থাকে মাথায় রেখেই এগোতে হবে বলেও দাবি তোলেন পরিবেশপ্রেমীরা।