রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী আসবেন। সেই কারণে, শুক্রবার নির্ধারিত সময়ের আগেই হেমতাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের বামুয়া এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন বিজেপির শতাধিক নেতা ও কর্মী। তাঁরা দু’ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও মন্ত্রী সেখানে যাননি। ফলে দলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়ে বামুয়া থেকে মহারাজাহাট পর্যন্ত গাঁধী সংকল্প যাত্রা বাতিল করে দেন বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। এ দিন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের বৈরাগীমোড় থেকে মালন পর্যন্তও সংকল্প যাত্রা হওয়ার কথা ছিল এবং সেখানে হাঁটার কথা ছিল দেবশ্রীর। সেখানেও হাঁটেননি তিনি। সেই এলাকাতেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়।

সংকল্প যাত্রার প্রমুখ তথা বিজেপির উত্তর দিনাজপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ লাহিড়ীর বক্তব্য, ‘‘সংকল্প যাত্রা চলাকালীন বিজেপির নেতা-কর্মীদের উপর তৃণমূলের হামলার আশঙ্কা ছিল। দলের জেলা নেতৃত্ব গোপন সূত্রে সেই খবর পাওয়ার পরেই বামুয়া থেকে মহারাজাহাট পর্যন্ত ওই যাত্রা বাতিল করে দেন। তাই দেবশ্রীদি বামুয়া এলাকায় যাননি। নিরাপত্তার অভাব ছিল বলে তিনি বৈরাগীমোড় থেকে মালন পর্যন্তও হাঁটেননি।’’

তৃণমূল অবশ্য এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে। জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান অমল আচার্যের দাবি, ‘‘বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্যই এ দিন হেমতাবাদের বিভিন্ন এলাকায় সংকল্প যাত্রা ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টিকে আড়াল করতে বিজেপির নেতারা তৃণমূলের হামলার আশঙ্কার গল্প ফেঁদেছেন।’’

বিজেপি সূত্রের খবর, এ দিন সকাল ১০টা নাগাদ দেবশ্রীর নেতৃত্বে বিজেপির বৈরাগীমোড় থেকে সংকল্প যাত্রা শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু দেবশ্রী সেখানে বেলা ১২টা নাগাদ পৌঁছন। এর পর সেখান থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংকল্প যাত্রা সামিল হন। কিন্তু দু’কিমি মতো হাঁটার পরেই তিনি নিজের গাড়িতে উঠে যান। মন্ত্রী চলে যেতেই দলের নেতা-কর্মীদের অনেকেই সংকল্প যাত্রা শেষ না করেই ফিরে যান। 

দল সূত্রে খবর, এ দিন দুপুর দু’টো নাগাদ দেবশ্রীর বামুয়া এলাকায় পৌঁছনোর কথা ছিল। সেখান থেকে তাঁর দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংকল্প যাত্রায় সামিল হওয়ার সূচি আগে থেকেই ঠিক ছিল। ওই যাত্রাটি প্রায় ছয় কিমি দূরে মহারাজাহাট এলাকায় গিয়ে শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই মতো, দুপুর দেড়টা থেকেই দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে পৌঁছে যান। কিন্তু বিকেল চারটে বেজে গেলেও দেবশ্রীর দেখা মেলেনি। ফলে ক্ষোভে দলের নেতা-কর্মীরা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্ব সংকল্প যাত্রা বাতিল করে দেন। 

বিজেপির এক জেলার কথায়, সাংগঠনিক দুর্বলতা ছাড়াও পরিকল্পনা ও দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এ দিন হেমতাবাদে বিধানসভা এলাকায় দলের সংকল্প যাত্রা হোঁচট খেল।