রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন পাঁচ রোগীর শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে এই রোগীদের শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়েছে। যদিও এই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ এঁটেছেন। ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁদের রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দিচ্ছেন না। এমনকি, তাঁদের ওই রিপোর্ট দেখানোও হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে রায়গঞ্জ মহকুমার বিভিন্ন এলাকার ১০ জন বাসিন্দা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।

হাসপাতালের অধ্যক্ষ দিলীপ পালের বক্তব্য, ‘‘ডেঙ্গিতে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গিতে আক্রান্ত কিছু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত কত জন রোগীর শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে, তা বলা সম্ভব নয়। রোগীদের ছুটি দেওয়ার সময়ে নথিতে তাঁরা কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা লিখে দেওয়া হবে।’’

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত গত দু’মাসে জেলায় প্রায় ৩০ জন বাসিন্দার শরীরে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে।

জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন রায়গঞ্জের বরুয়া এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ মোস্তাফা। তিনি বলেন, ‘‘মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার রক্তপরীক্ষা করেছেন। ওইদিন বিকালে ডাক্তার ও নার্সরা আমার ডেঙ্গি হয়েছে বলে জানিয়ে শয্যায় মশারি টাঙানোর পরামর্শ দিয়ে চলে গিয়েছেন। আমাকে রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া বা দেখানো হয়নি। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে মনে হচ্ছে।’’ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন হরিরামপুরের বাসিন্দা ফজিলুদ্দিন আহমেদ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার আমার রক্তপরীক্ষা করেছেন। বুধবার সকালে এক ডাক্তারবাবু আমার ডেঙ্গি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আমাকেও রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দেখানো হয়নি।’’ কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৌসুমী সাহা ও ভাটোল এলাকার বাসিন্দা তালাময়ী মুর্মুও জানান, ডাক্তাররাই তাঁদের বলেছেন যে, ডেঙ্গি হয়েছে।