শিলিগুড়ির যানজট সমস্যা এ বার গিয়ে পৌঁছল কলকাতায় ‘দিদিকে বলো’র দফতরে। 
শহরের দার্জিলিং মোড়ে যে নিত্যদিনের যানজটের যন্ত্রণা, তা মেটাতেই গত সপ্তাহে ‘দিদিকে বলো’র ওয়েবসাইটে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রেম দোরজি ভুটিয়া। গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকারের একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন উত্তরবঙ্গের এই বিশিষ্ট চিকিৎসক। ‘দিদিকে বলো’ চালুর পর অনেকেই জমি দখল থেকে নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। সেগুলি শোনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। একই ভাবে ‘দিদিকে বলো’র সাইটে গিয়েও অভিযোগ বা বক্তব্য নথিভুক্ত করা যাচ্ছে। প্রেম দোরজি সেখানে নিজের পরিচয় নথিভুক্ত করে দার্জিলিং মোড়ের সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
চিকিৎসক প্রেম দোরজি জানিয়েছেন, শহরের এটাই এখন জ্বলন্ত সমস্যা। ৩১ নম্বর এবং ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়কের ক্রসিং-এ থাকা ওই মোড়ে অবিলম্বে আর একটি সেতু প্রয়োজন। রেল লাইনের উপর বর্তমান সেতুটি অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ। তা কয়েক দশকের পুরনো। এতে রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যা তীব্র যানজট হয়। মাটিগাড়া, দাগাপুর, শালবাড়ির দিক থেকে স্কুল-কলেজ, ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটগুলি ছুটির পর ছেলেমেয়েরা বাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। চিকিৎসক থেকে রোগী, সাধারণ মানুষ, সকলেই বাগডোগরা, নকশালবাড়ি, মাড়িগাড়ার দিক থেকে শিলিগুড়িতে ঢুকতে নাকাল হচ্ছেন। একবার গাড়ির লাইন পড়লে সেই জট খুলতে কখনও আধ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়।
প্রেম দোরজি ভুটিয়া বলেন, ‘‘দার্জিলিং মোড়ের সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। ছয় লেন, চার লেন বা উড়ালপুল করতে তো সময় লাগবে। সেটাও দরকার। ততদিন রেল লাইনের উপর আর একটি সেতু করা গেলে, ওয়ানওয়ে ট্র্যাফিক চলবে। পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হবে। আমি তাই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছি। উনি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করবেন।’’
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওই রাস্তায় প্রস্তাবিত ছয় লেন করার দাবিতে সরব হয়েছে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল। চলতি মাসেই দার্জিলিং মোড়ে দলের তরফে দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করা হয়েছে। সেখান থেকেই ১৫ অগস্টের পর একদিনের অনশনে বসার হুমকি দিয়েছেন মন্ত্রী গৌতম দেবও। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বালাসন সেতু থেকে শালুগাড়া অবধি ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কটি চার থেকে ছয় লেন করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে কথা হয়। সেই মতো সমীক্ষা, জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রকে দিয়েছে রাজ্য। এর মধ্যে হঠাৎ সাংসদ রাজু বিস্তা চার লেনের রাস্তার কথা আবার বলেছেন। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘আমরা চাই, এই সমস্যা দ্রুত মিটুক। কিন্তু ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিতে হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘শিলিগুড়ির মানুষ রোজ ভুগছেন বলেই মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছেন।’’
প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ বর্মা, শিক্ষক সুমন্ত দে, কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী চন্দন সরকারের মতো বাসিন্দারা জানান, রোজই সকলকে কাজেকর্মে বাধ্য দার্জিলিং মোড় হয়ে চলাচল করতে হয়। ‘‘জায়গাটার নাম শুনেই গায়ে কাঁটা দেয়। অনেকে তো ভয়ে অন্য পথে ঘুরে যাতায়াত করেন,’’ বলছেন তাঁরা। তাঁদেরও মত, কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত অবিলম্বে রাজ্যের সঙ্গে কথা বলে কাজে হাতে দেওয়া।