ছিল রুমাল, হল বেড়াল। পুনর্মূল্যায়নে একলাফে নম্বর বাড়ল ৪৭। এ ঘটনা ঘটেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, মালদহ কলেজের স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের খাতা পুনর্মূল্যায়নে ৩৯ নম্বর বেড়ে হয়েছে ৮৬। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে হইচই পড়েছে। এ ঘটনায় নম্বর বাড়ানোর চক্র সক্রিয় বলেও অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। গত ২৩ মার্চ প্রকাশিত পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল অনেকটাই অসম্পূর্ণ বলে অভিযোগ। ফলাফলে কারও নাম নেই, তো কারও নম্বরই ওঠেনি। সে সব ভুল নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সংশ্লিষ্ট কলেজগুলিতে ভিড় জমাচ্ছেন। কলেজ সে সব সংশোধনের জন্য পাঠাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকস্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। কিন্তু প্রকাশিত সেই ফলকে ভুলেভরা ও নানা বিষয়ে গড় নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। চাপে পড়ে একমাস পর সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। তবুও নম্বর আশানুরূপ না হওয়ায় অসংখ্য পড়ুয়া খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, গত ২৩ মার্চ সেই পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ হয়। পড়ুয়াদের অভিযোগ, প্রায় তিনমাস পর পুনর্মূল্যায়ণের ফল প্রকাশ করা হলেও তা কার্যত অসম্পুর্ণ। বেশিরভাগ কলেজেরই পড়ুয়াদের অনেকের নামই পুনর্মূল্যায়নের ফলে নেই। অনেকের নাম ঠিক থাকলেও কোনও নম্বরই সেখানে লেখা নেই।

এ নিয়ে একটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘আমাদের কাছে প্রতিদিনই প্রচুর ছাত্রছাত্রী ভুলেভরা পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল নিয়ে সংশোধনের জন্য আসছে। সেগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে সংশোধনের জন্য।’’ আর এক কলেজের অধ্যক্ষা বলেন, ‘‘আমরা পড়ুয়াদের পুনর্মূল্যায়ণের ফলের ভুল সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছি। কেননা, কলেজের তরফে এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।’’

তবে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে মালদহ কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর পুনর্মূল্যায়ণের ফল ঘিরে। অভিযোগ, তিনি পেয়েছিলেন ৩৯ নম্বর। কিন্তু পুর্নমূল্যায়ণের পর তার সেই নম্বর বেড়ে হয়েছে ৮৬। যদিও ওই ছাত্রীর আগে-পড়ে থাকা পড়ুয়াদের কারও নম্বর বেড়েছে ৩ , কারও ৫।  মালদহ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রভাস চৌধুরী বলেন, ‘‘এমন ঘটনা জানা  নেই। তবে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই যা বলার বলবে।’’ গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সমূহের নিয়ামক শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, ‘‘ মনে হচ্ছে ছাপার ভুলে এটা হতে পারে। বিভিন্ন কারণে এ বার পুর্নমূল্যায়ণের ফলাফলে কিছু ভুল রয়েছে। সমস্ত ভুলই সংশোধন করা হবে।’’