এক দিন জোড়া পাল্টা চাল তৃণমূলের। এক দিকে বিপ্লব মিত্রের দুই ভাই ও এক অনুগামীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল। সেই সঙ্গে বিপ্লবের খাসতালুক গঙ্গারামপুরে পুরসভাতেও ভাঙন আটকানোর দাবি করল তৃণমূল। একই দিনে পতিরামে বিজেপির হাত থেকে পার্টি অফিস পুনরুদ্ধারেরও দাবি করেছে ঘাসফুল শিবির। 

লোকসভা নির্বাচনে বালুরঘাট আসনে বিজেপি জেতার পরেই দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিস বেদখল হতে শুরু করেছে। গঙ্গারামপুর থেকে বালুরঘাট— বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়গুলি দখলের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় পার্টি অফিস দখল আরও গতি পেয়েছে। সোমবার রাতেই বালুরঘাটের পতিরাম এবং গঙ্গারামপুরে তৃণমূলের অফিসে ঘাসফুলের পতাকা খুলে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে সেই পতিরামের কার্যালয়টি তৃণমূল পুনরুদ্ধার করে বলে দাবি। 

তৃণমূলের জেলা সভাপতি অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘‘বিজেপি জোর করে আমাদের দলীয় কার্যালয়গুলি দখল করছে। আমরা বিজেপির কাছে অনুরোধ করব, এটা করবেন না। আমরা যদি পাল্টা বিজেপির অফিস দখল করতে শুরু করি তা হলে জেলার আইনশৃঙ্খলা নষ্ট হতে পারে। তাই শান্ত জেলাকে শান্ত রাখতে এই পার্টি অফিস দখলের নোংরা রাজনীতি করবেন না।’’ 

স্থানীয় সূত্রে খবর, পতিরাম কদমতলিতে তৃণমূলের কার্যালয়টিতে বিজেপির পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় সোমবার রাতেই। এ দিন সকালে তা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের নজরে পড়লে বিষয়টি অর্পিতাকে জানানো হয়। তার পরে অর্পিতার নির্দেশে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির পতাকা খুলে আবার নিজেদের পতাকা লাগিয়ে দেন। তবে পতিরামের অফিস উদ্ধার করতে পারলেও গঙ্গারামপুরে দখল হওয়া কার্যালয় পুনরুদ্ধার করতে পারেনি তৃণমূল। গঙ্গারামপুর বাসস্ট্যান্ডের কাছে তৃণমূলের সেই কার্যালয়টি গেরুয়া হয়ে গিয়েছে। শুধু পার্টি অফিসই নয়, বিপ্লব বিজেপিতে যাওয়ায় জেলার বেশ কয়েকটি ক্লাবও গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছে বলে খবর। 

পার্টি অফিস দখলের অভিযোগ নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার বলেন, ‘‘আমরা কারও পার্টি অফিস দখল করি না। যাঁরা পার্টি অফিস তৈরি করেছেন, তাঁরাই যদি বিজেপিতে চলে আসেন, তা হলে সেই পার্টি অফিসে বিজেপির পতাকা তাঁরা লাগাতেই পারেন।’’

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।