দিন কয়েক ধরেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। জমছে জল। দিনের বেলায় রোদ। তাপমাত্রা বেশি থাকছে। রোদ বৃষ্টির এমন পরিবেশে ডেঙ্গি, এনসেফ্যালাইটিসের মতো রোগের আশঙ্কা বাড়ছে। কেন না জমা জলে মশা ডিম পাড়বে। দিনের বেলায় উপযুক্ত তাপমাত্রা পেলে তা থেকে লার্ভা জন্মাবে। বিশেষজ্ঞরা জানান, গত নভেম্বর ডিসেম্বরে ডেঙ্গির বাহক মশা ডিম পেড়েছে। কিন্তু ঠান্ডায় ডিম ফোটার উপযুক্ত তাপমাত্রা না মেলা এবং জল শুকিয়ে যাওয়ায় ডিমগুলো অনেক ক্ষেত্রে ওই অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। দুই বছর ডিমগুলো ওই অবস্থায় থাকতে পারে। জল এবং উপযুক্ত তাপমাত্রা পেলে তা ফুটে ডেঙ্গির বাহক মশা জন্মাবে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য, ডেঙ্গি প্রতিরোধের কাজে যুক্ত উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তুলসি প্রমাণিকরাও জানান, কোথাও যতে জল জমে না থাকে তা দেখতে হবে। তা ছাড়া স্প্রে করা খুবই জরুরি। 

গত বছর অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবেই ১৪০০। বেসরকারি হিসাবে দশ হাজারের মতো বলে দাবি। এ বছর শীতের মধ্যেও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক কিশোরী জেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত এখন থেকেই সতর্ক হওয়া দরকার। শীতের সময় থেকেই লার্ভা মারতে নিয়মিত স্প্রে করা দরকার ছিল। দেরি হলেও এখন সেই কাজ জোর দিয়ে করতে হবে। পুরসভার তরফেও অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ মার্চ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, পুলিশ, শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পূর্ত দফতর, সেচ দফতর-সহ বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে ডেঙ্গি, এনসেফ্যালাইটিসের মতো রোগ মোকাবিলায় ব্যবস্থা নিতে  বৈঠক ডেকেছেন পুর কর্তৃপক্ষ।

মেয়র অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘বছরের শুরু থেকেই ডেঙ্গি নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। বৈঠকও ডাকা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ মেনে সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তরফে পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা স্বাস্থ্য দফতরকে জানানোর তদ্বিরও করা হচ্ছে। দফতরের এক আধিকারিক জানান, বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এবং দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেশি থাকা মশার বংশ বৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। লার্ভা এবং মশা মারতে তৎপর হতে স্বাস্থ্য দফতরকেও জানানো হচ্ছে। জল যাতে না জমে, সে দিকে নজর দিতে বলেছেন সকলেই।