লোকসভা নির্বাচনের মুখে বেআইনি ভাবে টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে রায়গঞ্জ ও গোয়ালপোখর থানা এলাকা থেকে পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার রাত ও সোমবার সকালে রায়গঞ্জ শহরের কসবা নেতাজিমোড় ও গোয়ালপোখর থানার ঘরধাপ্পা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কসবা নেতাজিমোড় থেকে ধৃতদের নাম আবু সাল্লা ও আরিফ বিল্লা। তাঁদের বাড়ি বিহারের আবাদপুর থানার গোয়ালতলি এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩২০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। অন্য দিকে, ঘরধাপ্পা থেকে ধৃত বাকি তিন ব্যক্তির নাম প্রকাশ ধাগা, বাবুলাল ধাগা ও সঞ্জয় ভকত। তাঁদের বাড়ি বিহারের গোলাপবাগ থানার সানোলিচক এলাকায়। পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পুলিশ সন্দেহজনক কাজকর্মের অভিযোগে জামিনযোগ্য ৪১ সিআরপিসি ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এ দিন ধৃতদের রায়গঞ্জ ও ইসলামপুরের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছে।

রায়গঞ্জ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকারের বক্তব্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। সেই কারণে, আদালত ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করেছে।

উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সুমিত কুমারের বক্তব্য, নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। তাই নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আয়ের উৎসের নথি ছাড়া কোনও ব্যক্তি ৫০ হাজার টাকার বেশি টাকা নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারবেন না। নেতাজিমোড় ও ঘরধাপ্পায় ধৃতরা তাঁদের সঙ্গে থাকা টাকার আয়ের উৎসের নথি দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই, তাঁদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে পুলিশ রায়গঞ্জ শহরের কসবা নেতাজিমোড় এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে নাকাতল্লাশি চালাচ্ছিলেন। পুলিশের সঙ্গে ওই তল্লাশিতে সামিল ছিলেন নির্বাচন কমিশনের এফএসটি, এসএসটি ও ভিএসটি দলের সদস্যরাও। সেই সময় আবু সাল্লা ও আরিফ বিল্লা নামে দুই ব্যক্তি মোটরবাইক নিয়ে রায়গঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পুলিশ এফএসটি, এসএসটি ও ভিএসটি দলের সদস্যরা তাঁদের বাইকের ডিকিতে তল্লাশি চালিয়ে আয়ের উৎসের নথিবিহীন ১ লক্ষ ৪০ হাজার ৩২০ টাকা উদ্ধার করে।

অন্য দিকে, সোমবার সকালে পুলিশ ও এফএসটি, এসএসটি ও ভিএসটি দলের সদস্যরা ঘরধাপ্পার ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কে বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে নাকাতল্লাশি চালাচ্ছিলেন। সেইসময় প্রকাশ, বাবুলাল ও সঞ্জয় একটি ছোটগাড়িতে চেপে বিহারের দিক থেকে শিলিগুড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পুলিশ এফএসটি, এসএসটি ও ভিএসটি দলের সদস্যরা তাঁদের গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালাতেই আয়ের উৎসের নথিবিহীন ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেন।

যদিও ধৃতরা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, তাঁরা মহাজন ও পরিচিতদের দেওয়ার জন্য ব্যবসার টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। খুব শীঘ্রই তাঁরা আদালতে সেই টাকা আয়ের উৎসের নথি পেশ করবেন।