পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনকে ঘিরে মানিকচকের গোপালপুরের গুলি-বোমা কাণ্ডে আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ জনকে গোপালপুর পঞ্চায়েতেরই বালুটোলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। একজন ধৃতের কাছ থেকে একটি পাইপগান ও এক রাউন্ড কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের রবিবার মালদহের সিজিএমের এজলাসে তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ জনেরই জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। এ নিয়ে ওই কাণ্ডে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হল।

বোর্ড গঠনকে ঘিরে গুলি-বোমার লড়াইয়ে গত সোমবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মানিকচক ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। অভিযোগ, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই ওই ঘটনা ঘটে। সেদিন গুলির লড়াইয়ে পড়ে নিহত হয়েছিলেন আজাহার শেখ ও সালাম শেখ নামে দু’জন গ্রামবাসী। এমনকি নিস্তার পায়নি তিন বছরের একটি শিশু জিসান শেখ ও এক মহিলা সহ পাঁচজন বাসিন্দাও। তাঁরাও গুলি ও বোমার আঘাতে জখম হয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রাথমিকভাবে জানতে পারে স্থানীয় এক শাসকদলের নেতার মদত রয়েছে ওই গুলি-বোমা কাণ্ডে। যদিও সেই নেতার নাম এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না তদন্তের স্বার্থে। পুলিশ আরও জানতে পারে, সে দিন বোমা-বন্দুক নিয়ে একাধিক দুষ্কৃতীদল এসেছিল। তাঁদের অনেকেই ছিল এই গোপালপুর পঞ্চায়েতেরই বালুটোলার বাসিন্দা। এ ছাড়া পাশের গ্রাম পঞ্চায়েত ধরমপুর পঞ্চায়েত, প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ড, এমনকি এই জেলারই কালিয়াচক থেকেও একাধিক দুষ্কৃতীদের ভাড়া করে সম্ভবত আনা হয়েছিল অশান্তি পাকাতে।

ওই গুলি-বোমা কাণ্ডে গত সোমবার রাতেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ধৃত মহম্মদ নাসির, মজলিস শেখ ও আনারুল শেখের সকলেরই বাড়ি গোপালপুরের বালুটোলা গ্রামে। পরে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। শনিবার রাতে ফের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয় ওই বালুটোলা এলাকা থেকেই। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন জাহির শেখ, আফরাজুল  শেখ, তাহির শেখ, মুর্শেদ শেখ ও মহম্মদ আজিম শেখ। এই আজিম শেখের কাছ থেকে একটি পাইপগান ও এক রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে প্রতিদিনই তল্লাশি চলছে। কাণ্ডে জড়িত থাকা ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারে ওই রাজ্যের পুলিশের সঙ্গেও মালদহ জেলা পুলিশের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ জানিয়েছেন, আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। পুলিশি তদন্তে দলের এক নেতার নাম উঠে এলেও তা মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে দলের জেলা কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার বলেন, আইন আইনের পথে চলবে।