• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হড়পা বানে বিচ্ছিন্ন চালসা চা বাগান

3
পাহাড়ি ঝোরায় হড়পা বানে ভাঙল সেতু।

প্রবল বৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ডুয়ার্সের চালসা চা বাগান। গত শনিবার রাতে মাত্র দু’ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে মেটেলি এবং মেটেলি লাগোয়া চালসা চা বাগানের ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চালসা চা বাগানের ১টি সেতু-সহ ৩টি কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় বাগানের সঙ্গে বাইরের এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কুর্তি নদী এবং মালিখোলা, সর্দিঝোরার মত ঝোরাগুলির জলেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এলাকা জুড়ে। গত শনিবার সন্ধে ৭-৯টা অবধি বৃষ্টি হয় মেটেলিতে। এর পরেই জল বাড়তে শুরু করে। মেটেলির মহাকাল পাড়ার কুর্তি নদীর ধারে থাকা তিনটি বাড়িতে জল ঢুকে পড়ে।

মহাকাল পাড়ার বাসিন্দা রাজেশ রাজভর, নুর আলম এবং মহম্মদ কছুমুদ্দিনদের কথায়, ‘‘নদীর জল পাথরের বাধ টপকে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। কোনও রকমে পরিবার নিয়ে উঁচু রাস্তায় গিয়ে উঠি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সব কিছু লন্ডভন্ড করে দিয়ে নদী বাড়ির ভেতর দিয়ে বইতে শুরু করে।’’ জলের তোড়ে হাঁড়ি, কড়াই, থালা সবই ভেসে গেছে বলেও জানান তারা। এলাকার বাসিন্দা মানিক শীল বলেন, ‘‘মেটেলির মত পাহাড়ি এলাকায় যে নদীর জল ঢুকতে পারে তা কোনও দিনই ভাবিনি।’’

মোটরবাইক নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কংগ্রেস বিধায়ক জোসেফ মুন্ডা। 

রবিবার বিকেলেই চালসা চা বাগান পরিদর্শনে আসেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক পৃথা সরকার। জেলাশাসক বলেন, ‘‘চালসা চা বাগানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি, যোগাযোগ ব্যবস্থা যাতে দ্রুত তৈরি করা যায় সে জন্যে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতেই আমরা কাজ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’’

রবিবার রাতের বৃষ্টিতে মেটেলি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে চালসা চা বাগানে মালিখোলা ঝোরার জলস্ফীতিতে ৮মিটারের সেতুর এক দিকের মাটি ধসে গিয়ে পুরো সেতুটাই ঝোরায় পড়ে গিয়েছে। ভেঙে গিয়েছে সর্দিঝোরার দু’টি সেতুও। চালসা চা বাগানের সঙ্গে মেটেলির যোগাযোগ এখন শুধুই মোটরবাইক এবং সাইকেল নির্ভর হয়ে পড়েছে। বাগানের ম্যানেজার প্রদীপকুমার সিংহ এবং শ্রমিক কল্যাণ আধিকারিক রাহুল শর্মাদের কথায়, ‘‘বাগান পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না।’’ বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দু’ঘণ্টায় ১০ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে বাগানে। সে কারণেই ছোট ছোট ঝোরাগুলি ফুঁসে উঠে সেতু, কালভার্ট ভেঙে দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। ৫ হাজার জনবসতির বসবাস চালসা চা বাগানে। অ্যাম্বুল্যান্সের মত জরুরি পরিষেবা যেমন বন্ধ হয়ে গিয়েছে তেমনই বাগানের রেশন সামগ্রী আনা নেওয়ার কাজও থমকে গেছে বলে ম্যানেজার জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রবিবার সকালেই মোটরবাইকে করে চালসা চা বাগানে পৌঁছন নাগরাকাটার কংগ্রেস বিধায়ক জোসেফ মুন্ডা। মেটেলির ক্ষতিগ্রস্তদের তিনি থালা বাসন কিনেও দেন। চালসার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ভেঙে পড়া কালভার্টগুলি দ্রুত সেগুলির মেরামতও দাবি করেন তিনি। জোসেফ মুন্ডা বলেন, ‘‘মেটেলি এবং চালসা চা বাগানের ভয়াবহ পরিস্থিতি, দ্রুত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেতু তৈরির কাজ না করা হলে বাগানে রেশনের চালটুকু পৌঁছে দেওয়া সমস্যা হবে।’’ ঘটনাস্থলে আসেন জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের বিরোধী দলনেতা অমরনাথ ঝা এবং মেটেলি পঞ্চায়েত সমিতির বাম সভাপতি সফিরুদ্দিন আহমেদ। তাঁরাও জেলাপ্রশাসনের উদ্যোগে দ্রুত চালসা বাগানের যোগাযোগ স্থাপনের দাবি করেন।

 

ছবি: সব্যসাচী ঘোষ।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন