দলের   মিটিং থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা সম্পাদক ও প্রাক্তন বিধায়ক অক্ষয় ঠাকুরের  গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। দিনহাটা এক ব্লকের গোসানিমারি মালিরহাট এলাকায় মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। 

কোচবিহারের পুঁটিমারি  ফুলেশ্বরী থেকে ফেরার পথে গোসানিমারি মালিরহাট এলাকায় রাস্তা আটকে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অক্ষয় ঠাকুর অভিযোগ করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কেউ জড়িত নয় বলে দলের জেলা নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

 অক্ষয় ঠাকুর এ দিন জানান, মঙ্গলবার তিনি কোচবিহার এক ব্লকের পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় দলের এক সভায় যোগ দিতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে বিজেপি আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী   একটি মারুতি গাড়ি করে তাঁর গাড়ির অনুসরণ করে পিছনে পিছনে আসতে থাকে। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি মোটরবাইকও তিনি তাঁর গাড়ির পিছনে দেখতে পান বলে জানান। মালিরহাট এলাকায় তাঁর গাড়ি পৌঁছতেই মারুতি গাড়িটি তাঁর গাড়িকে টপকে গিয়ে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে পড়ে। এর পর ওই গাড়ি থেকে বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে পাঁচ-ছ’জন তাঁর গাড়ির দিকে আসতেই তিনিও গাড়ি থেকে নেমে পড়েন বলে জানান। ‘জয়  শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়ির উপরে হামলা করে, তারপর ভাঙচুর চালায়। দুষ্কৃতীরা সকলেই বিজেপি কর্মী-সমর্থক বলে  তিনি দাবি করেন।

তিনি জানান, সেদিন  ওই  এলাকায় কয়েকশো সাধারণ মানুষ ফরওয়ার্ড ব্লক দলে যোগদানের জন্য তাঁদের কাছে আবেদন করেন। সেখানকার বাসিন্দাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দলবদলের সভায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। যাঁরা ফরওয়ার্ড ব্লকে যোগদান করবেন, তাঁদের আসার পথেই বিভিন্ন জায়গায় আটকে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে মিটিং না করেই তিনি সন্ধ্যার পর সেখান থেকে গোসানিমারি মালিরহাট হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ফেরার  পথেই  মালিরহাট এলাকায়  মারুতি গাড়ি-সহ বেশ কয়েকটি মোটরবাইক তাঁর গাড়ি আক্রমণ করে ও ভাঙচুর চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার রাতেই, ফরওয়ার্ড ব্লকের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অক্ষয় ঠাকুর, যুবলিগের রাজ্য সম্পাদক আব্দুর রউফ, ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা বিকাশ মণ্ডল প্রমুখের নেতৃত্বে দলের এক প্রতিনিধিদল দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্তর সঙ্গে দেখা করে গোটা ঘটনাটি  জানান। পাশাপাশি বুধবার, দিনহাটা থানায় ১৫ জনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দায়ের করেন অক্ষয় ঠাকুর।

বিজেপির দলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও কর্মী-সমর্থকের কোনও সম্পর্ক নেই বলে বিজেপির কোচবিহার জেলা সহ-সভাপতি ব্রজগোবিন্দ বর্মণ, দলের জেলা সম্পাদক সুদেব কর্মকার  দাবি করেন। জেলা বিজেপি নেতৃত্বের তরফে দাবি করা হয়েছে, সদ্য লোকসভা ভোটে পরাজয়ের পর বামেরা এবং তৃণমূল, যোগসাজশ করে বিজেপিকে নানাভাবে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছে।

প্রাক্তন বিধায়কের উপর হামলা, তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে এ দিন দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের খোঁজ চলেছে।