জলদাপাড়ায় গন্ডার খুনের ঘটনায় বন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী অনন্ত রায়।

বৃহস্পতিবার জলদাপাড়া বনাঞ্চলে একটি স্ত্রী গন্ডারের দেহ উদ্ধার হয়। সেটির খড়্গ কেটে নেওয়া হয়েছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, গন্ডারটিকে মেরে খড়্গ পাচার করা হয়েছে। ওই ঘটনা নিয়েই সরব হয়েছেন অনন্ত। রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রী তথা সিপিএমের কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায় বলেন, “রাজ্যের বন দফতরের প্রশাসনিক ভিত ভেঙে পড়েছে। যার জেরে গন্ডার খুনের সাহস পেয়েছে দুষ্কৃতীরা। দ্রুত কিনারা হওয়া দরকার।” রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, দীর্ঘদিন বনমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ অবশ্য ওই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বাম জমানা নিয়েই পাল্টা আঙুল তুলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে রাজ্যের বর্তমান শাসক ও বিরোধী শিবিরের চাপানউতোর প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। 

কোন কোন খামতির অভিযোগে বর্তমান সরকারকে কাঠগড়ায় তুলছেন প্রাক্তন বনমন্ত্রী? অনন্তর অভিযোগ, বন দফতরের প্রচুর পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। নিয়োগ প্রায় বন্ধ। অত্যাধুনিক অস্ত্রে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হয়নি। এমনকি বনবস্তি লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে দফতরের যোগাযোগে ‘চিড়’ ধরেছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে নিরীহ বন্যপ্রাণীদের। অনন্তের দাবি, “বাম আমলে এমন পরিস্থিতি ছিল না। আমরা প্রচুর লোক নিয়োগ করেছিলাম। স্থানীয়দের সঙ্গেও দফতরের যোগাযোগ ছিল নিবিড়।” 

প্রাক্তন বনমন্ত্রীর ওই বক্তব্য শুনে হাসছেন রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। দীর্ঘদিন ওই দফতরে থাকা বিনয়বাবুকে সরিয়ে কিছুদিন আগে বনমন্ত্রী করা হয় ব্রাত্য বসুকে। বিনয় বলেন, “যিনি আমাদের সময়ের খামতির কথা বলছেন তিনি বাস্তব তথ্য জানেন না। আমি বনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময়েই বিট অফিসার, রেঞ্জ অফিসার থেকে বনকর্মীদের শূন্যপদে নিয়ম মেনে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। মৃত বনকর্মীর পোষ্যের চারশো জনের চাকরি রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর হয়েছে।” তাঁর সংযোজন, “বাম জমানায় অনেক বেশি গন্ডার খুন হয়। উত্তরের জঙ্গল নিশ্চিহ্ন হয়েছে ওই সময়।”

পরিবেশপ্রেমীদের একাংশ বলছেন, এমন তরজা নতুন নয়। আগেও বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর একাধিক ঘটনায় কখনও শাসক-বিরোধী, কখনো রেল-বন, কখনও আবার আধিকারিক ও বাসিন্দাদের মতবিরোধ ঘিরে চাপানউতোর প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে আখেরে উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চলে গন্ডার তো বটেই অন্য প্রাণীদের নিরাপত্তাও পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র করা যায়নি। যার ফলে আগেও গন্ডার খুন, হাতি মেরে দাত লোপাট করে নেওয়ার  মতো নানা অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশপ্রেমী সংস্থা ন্যাসগ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, “বন্যপ্রাণীদের নিরাপত্তা স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত রয়েছে। তাই মাঝেমধ্যে চোকাশিকারীদের হাতে বেঘোরে প্রাণ দিতে হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা শিকেয় ছিল, আছেও।” আলিপুরদুয়ার বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সংস্থার কর্তা কৌশিক দে বলেন, “তরজা নয়, বন্যপ্রাণী রক্ষায় সার্বিক উদ্যোগ দরকার। সবাই একজোট না হলে চোরাকারবারিদের রোখা কঠিন হবে।”