মুখ রাখলেন ডালু, খুশি কোতোয়ালি
এ বারে হাত নয়, ঘাসফুল প্রতীকে ভোটে লড়াই করেন কোতোয়ালির মৌসম।
Mausam Noor

আলোচনা: দলীয় কার্যালয়ে মৌসম নুর। শুক্রবার। নিজস্ব চিত্র

ঘুম থেকে বেলা করে ওঠা অভ্যেস। নির্বাচনের মরসুমেও বদলাননি সেই অভ্যেস। বৃহস্পতিবার জেগেছেন গভীর রাত পর্যন্ত। তবুও শুক্রবার সকাল সকালই উঠে পড়লেন ঘুম থেকে। এ দিন প্যান্ট, সার্টের পরিবর্তে পাজামা-পাঞ্জাবি। আর পাঞ্জাবির উপরে নীল জহর কোট। এ দিন সকাল থেকেই দলীয় নেতা, কর্মীদের শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসলেন টানা চার বারের সাংসদ প্রয়াত গনিখান চৌধুরীর ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী। 

তিনি যখন শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছেন, তখন নিজের হারের ময়না তদন্ত করতে দলীয় কার্যালয়ে ছুটলেন কোতোয়ালি পরিবারের তৃণমূল সদস্য মৌসম নুর। এ দিন এক ছাদের তলায় একই সঙ্গে আনন্দ এবং অন্য দিকে বিষাদের ছবি ফুটে উঠল প্রয়াত গনিখানের কোতোয়ালি ‘হাভেলিতে’। 

আমের বাগান ঘেরা প্রাসাদাকার ‘কোতোয়ালি হাভেলি’। এ বারে দিল্লি দখলের দৌড়ে মালদহের দু’টি কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়াই করেন কোতোয়ালি পরিবারের তিন সদস্য। তবে এ বারে হাত নয়, ঘাসফুল প্রতীকে ভোটে লড়াই করেন কোতোয়ালির মৌসম। তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করেন ডালুবাবুর বিধায়ক ছেলে ইশা খান চৌধুরী। গেরুয়া ঝড়ে কোতোয়ালি পরিবারের উত্তর মালদহের দুই প্রার্থীরই ভরাডুবি ঘটে। তাঁদের টেক্কা দিয়ে ৫ লক্ষ ৯ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিজেপির খগেন মুর্মু। আর ৪ লক্ষ ২৫ হাজার ২২৬ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে মৌসম এবং ইশা খান ৩ লক্ষ ৫ হাজার ২৭০ ভোট পেয়ে চলে আসেন তৃতীয় স্থানে। ফোটোফিনিশে দক্ষিণ মালদহে বাজিমাত করে গনির গড় রক্ষা করেন আবু হাসেম খান চৌধুরী। বিজেপি প্রার্থী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৮ হাজার ২২২ ভোটে জয়ী হন তিনি। 

এ দিন সকাল থেকেই ডালুবাবুকে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেন দলীয় নেতা, বিধায়ক, কর্মীরা। ডালুবাবু বলেন, “ভোট এক ধরনের উৎসব। তাই এ দিন ইচ্ছে করেই পাজামা-পাঞ্জাবি পরেছি।” নিজে হারলেও বাবার জয়ে খুশি ইশা খান। তিনি বলেন, “আমি সুজাপুরের বিধায়ক রয়েছি। দলের নির্দেশে উত্তর মালদহে লড়াই করেছি। সেখানে হার-জিত থাকতেই পারে। আমরা দু’টির মধ্যে একটি আসন ধরে রেখেছি।”  

মৌসম দলবদলের আগেই কোতোয়ালি ভবনের একাংশে প্রাচীর তুলে দিয়েছিলেন। প্রাচীরের সেই অংশে কোনও উচ্ছ্বাস নেই। আজ, শনিবার কলকাতায় দলের বৈঠকে যোগ দিতে যাবেন তিনি। তিনি বলেন, “বিজেপির সঙ্গে আমাদের ভাল লড়াই হয়েছে। ধর্মের ভেদাভেদ করে ভোট হয়েছে।” বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক দলকে রুখতে হলে বিরোধীদের জোট বাঁধতে হবে বলে জানান মৌসম।