প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই নাবালক। সন্ধের পরে ঘুরতে গিয়ে একদল যুবকের সামনে পড়ে। নাবালক কিশোরকে তারা কয়েকজনে ধরে রাখে। আর তার সামনেই ওই নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়। ধান খেতে সেই সন্ধেরাতে তাদের চিৎকার কেউই শুনতে পায়নি।

আলিপুরদুয়ারের ভোলারডাবরি সুবর্ণপুর এলাকার এই ঘটনায় অবাক এলাকা। মঙ্গলবার সকালে আলিপুরদুয়ার মহিলা থানার যায় মেয়েটির পরিবার। অভিযোগ পেয়েই নড়চড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজে। ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয় মেয়েটির দাদাকে। তবে ঘটনার পর থেকেই উধাও মেয়েটির প্রেমিক। ওই কিশোরের বাড়ি শিলিগুড়িতে। সে গত কয়েকদিন কলকাতায় কাজের সন্ধানে গিয়েছিল। তার মা মঙ্গলবার শিলিগুড়ি থেকে বলেন, ‘‘পুলিশ ওকে খুঁজছে দেখেই ও ভয় পেয়ে মোবাইলের সিম খুলে ফেলেছে।’’ সেই থেকে সে কোথায় রয়েছে, তার কোনও সন্ধান মেলেনি। 

ওই কিশোরের দিদিমার বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। সেই সূত্রেই সে এখানে এসেছে। প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে সে সোমবার রাতে বেরোয়। ওই নাবালিকার দাদা জানান, ওই দিন সন্ধ্যায় বাড়িতে তাঁর দুই বোনই কেবল ছিলেন। তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন রাত ১০টা নাগাদ এক বোন বাড়িতে ফেরে। এবং রাতে স্নান করে। সেই সময় তাঁর সন্দেহ হয়। সকাল বোন সব কথা খুলে বলে। তাঁকে তাঁর বোন জানায়, প্রেমিকের সঙ্গে বেরোনোর সময় কয়েকজন যুবক তাদের পথ আটকায়। প্রথমে দশ হাজার টাকা চায় যুবকরা। পরে তাদের সঙ্গে বসে নাবালিকাকে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দেয়। সে তা অস্বীকার করলে প্রেমিককে ধরে ফেলা হয়। আর ধান খেতের মধ্যে তাকে ধর্ষণ করা হয়। চিৎকার করলেও ফাঁকা ধান খেতে কোনও সাহায্য মেলেনি। মেয়েটির দাদা জানান, তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি চাইছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটিকে মেডিক্যালের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে যান পুলিশকর্তারা। থানায় মেয়েটির সঙ্গে আধঘণ্টা কথা বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়। পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে। মেয়েটির মেডিক্যাল করানো হচ্ছে।  অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। তবে মেয়েটির সঙ্গে থাকা কিশোর বাড়িতে নেই। তাঁর খোজ চলছে।’’

সুবর্ণপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান প্রায় রোজ রাতে ধান খেতে মদের আসর বসে। বাসিন্দারা প্রতিবাদের সাহস পান না।