সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক হতে চলেছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের লেখা বর্ণপরিচয়ের প্রথম এবং দ্বিতীয় ভাগ। আগামী সপ্তাহ থেকে জলপাইগুড়ির সব স্কুলে বর্ণপরিচয় বিলির নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক। গত লোকসভা ভোটের আগে কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। তখনই সরকার ঘোষণা করে, ভোটের পরে নতুন মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে। সে সময় শিক্ষানুরাগীদের একাংশ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলেছিল, যে রাজ্যে সরকারি পাঠ্যক্রমে বর্ণপরিচয়কে বাদ রাখা হয়েছে, সেখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে কী হবে? এর তিন মাস পরে পাঠ্যক্রমে অর্ন্তভুক্ত হল বর্ণপরিচয়।

স্কুলগুলিতে পাঠ্যক্রমে বই বিলি হয়েছে জানুয়ারি মাসে। চলতি শিক্ষাবর্ষের আট মাস পেরোতে চলল। বছর শেষ হতে হাতে মোটে চার মাস। হঠাৎ বর্ণপরিচয়কে সামিল করা নিয়ে তাই শিক্ষকদের একাংশও বিস্মিত। জলপাইগুড়ির জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক মৃন্ময় ঘোষ এই নিয়ে কিছু বলতে চাননি। সংসদ থেকে জেলার সব সার্কেলকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ণপরিচয় বিলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্ণপরিচয় নিয়ে পরীক্ষায় প্রশ্ন আসবে কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি।

স্থির হয়েছে, প্রথম শ্রেণিতে বর্ণপরিচয়ের প্রথম ভাগ এবং দ্বিতীয় শ্রেণিতে দ্বিতীয় ভাগ পড়ানো হবে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বর্ণপরিচয় স্কুল পাঠ্য ছিল না। জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদ সূত্রের খবর, ১৬ অগস্ট এক নির্দেশিকায় জানানো হয়, বর্ণপরিচয়কে অবশ্য পাঠ্য করা হয়েছে। যে বই জলপাইগুড়িতে বিলি করা হবে তা সরকারের তরফেই ছাপানো। বিদ্যালয় শিক্ষা দফতরের নামও লেখা রয়েছে বইয়ে। লেখা আছে বিদ্যাসাগরের দুশোতম জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির নামও।

সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী নিয়ে টানা কর্মসূচি পালনের নির্দেশও দিয়েছে জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদ। জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর মতে, “লোকসভা ভোটে রাজনীতি করতে গিয়ে তৃণমূলের হঠাৎ করে বিদ্যাসাগরকে মনে পড়ে। পুরোটাই লোক দেখানো।” তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি নির্মল সরকার বলেন, “বিজেপি বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে বাংলা থেকে মুক্তচিন্তাকে দূর করতে চেয়েছে। রাজ্য সরকার সকলের মাঝে বিদ্যাসাগরকে ছড়িয়ে দিতে চাইছে।”